সাইফুল্লাহ, গাজীপুর প্রতিনিধি
বাংলাদেশে খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জলবায়ু সহিষ্ণু ধানের নতুন জাত উদ্ভাবনে জিনোম এডিটিং প্রযুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে গাজীপুরের ব্র্যাক এগ্রিকালচারাল রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়েছে দিনব্যাপী এক গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শমূলক কর্মশালা। ৯ মে (শনিবার) অনুষ্ঠিত “জিনোম এডিটিংয়ের মাধ্যমে জলবায়ু সহনশীল ধানের জাত উন্নয়ন” শীর্ষক এ কর্মশালাটি ছিল বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমির অধীনে ইঅঝ-টঝউঅ-চঅখ অর্থায়িত একটি বিশেষ গবেষণা প্রকল্পের অংশ। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন প্রকল্পের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমির ফেলো এবং গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোঃ তোফাজ্জল ইসলাম। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন দেশের জীবপ্রযুক্তিবিদ প্রফেসর হাসিনা খান। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করে ড. তোফাজ্জল। পরে আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। বক্তারা বলেন, ’’জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলায় টেকসই কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আধুনিক জিনোম এডিটিং প্রযুক্তি সময়োপযোগী ও কার্যকর সমাধান হতে পারে। বিশেষ করে লবণাক্ততা, খরা, অতিবৃষ্টি ও রোগবালাই সহনশীল ধানের জাত উদ্ভাবনে এ প্রযুক্তি বাংলাদেশের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে।’’ পরবর্তীতে প্রথম কারিগরি অধিবেশনে প্রকল্পের সাতজন প্রধান গবেষক (পিআই) তাদের চলমান গবেষণার অগ্রগতি উপস্থাপন করেন। এতে অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ এবং সুপ্রিম সিড কোম্পানি লিমিটেডের গবেষকবৃন্দ। অন্যদিকে দ্বিতীয় কারিগরি অধিবেশনে অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান ও অধ্যাপক তোফাজ্জল ইসলাম গাইড-আরএনএ ডিজাইন, ধানের জাত উন্নয়নে জিনোম এডিটিং প্রযুক্তির ব্যবহার, এবং জাত উন্মুক্তকরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জীবনিরাপত্তা বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। পরবর্তীতে গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা প্রকল্পের লক্ষ্যমাত্রাভুক্ত ধানের কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্য অর্জনে বিদ্যমান প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে প্রাণবন্ত উন্মুক্ত আলোচনা করেন।
এছাড়াও এ আলোচনা কর্মশালায় ব্রাক সীডের ড. আকিদুল আজিজ ও জ. আরিফ, লাল তীর সীড লিমিটেডের ড. আফরোজা, ট্রপিক বায়োসায়েন্স (যুক্তরাজ্য) এর ড. জিয়াউর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. তাহমিদা, বাংলাদেশ ধান গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ড. শাহানা, সিমিটের ওয়াশিক ফয়সাল, ন?্যাশনাল বায়োটেকনোলজি ইনস্টিটিউটের ড. মুসলিমাসহ দেশি-বিদেশি প্রায় ৪০ জন বিশেষজ্ঞ, গবেষক, শিল্প প্রতিনিধি, পিএইচডি শিক্ষার্থী ও প্রকল্প সদস্য অংশ নেন।
এ প্রকল্পের মাধ?্যমে দেশে জিনোম এডিটিংয়ের মাধ?্যমে উচ্চ ফলনশীল লবণাক্ততা, উচ্চতাপ, ঢলে পড়ারোধী, সার-সাশ্রয়ী, ব্লাস্ট ও ব?্যাকটেরিয়াল ব্লাইট রোগ প্রতিরোধী ক্লাইমেট-স্মার্ট ধানের জাত উদ্ভাবনের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। একই সাথে কর্মশালার সমাপনী পর্বে আগামী তিন বছরে বাংলাদেশে জিনোম-এডিটেড, জলবায়ু সহনশীল ধানের নতুন জাত উদ্ভাবন ও বাণিজ্যিকীকরণের লক্ষ্যে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা ও কৌশলগত সুপারিশ তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক শিল্প অংশীদারদের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, শিক্ষা ও শিল্প খাতের সমন্বিত এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে কৃষকের জন্য অধিক সহনশীল ও উচ্চফলনশীল ধানের জাত উদ্ভাবনের পথ সুগম করবে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
