রফিকুল ইসলাম,সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার তাল ও তাল স্বাসের সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। প্রচণ্ড গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে তাল স্বাসের চাহিদা বেড়েছে কয়েকগুণ। স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাড়াশের তাল স্বাস সরবরাহ করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে থাকা তালগাছগুলো মৌসুম শুরুর আগেই পাইকাররা ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা করে প্রতি গাছের তাল কিনে নেন। পরে গাছ থেকে তাল সংগ্রহ করে সেগুলো দেশের বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হয়। সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, রাজশাহী ও ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীরা তাড়াশে এসে তাল ক্রয় করেন। তাড়াশ পৌর এলাকার ভাদাস গ্রামের ব্যবসায়ী সোহাগ হোসেন জানান, তিনি জেলা পরিষদের আওতাধীন তাড়াশ-নিমগাছী সড়কের পাশের তালগাছের খোলাডাক কিনেছেন। বর্তমানে তিনি গাছ থেকে তাল সংগ্রহ করে বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীদের কাছে পাইকারি দরে বিক্রি করছেন। প্রতি পিস তাল ৬ থেকে ৭ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে তাড়াশ পৌর এলাকার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তাল স্বাসের খুচরা ব্যবসায়ী শান্ত ইসলাম বলেন, গরমের কারণে তাল স্বাসের চাহিদা অনেক বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি পিস তাল ১৫ থেকে ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতা মাহফুজুর রহমান সুইট জানান, একটি তালে সাধারণত তিনটি চোখ থাকে। প্রতিটি চোখ ৫ টাকা হিসেবে একটি তাল ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তাল স্বাস অত্যন্ত সুস্বাদু হওয়ায় তিনি পাঁচটি তাল কিনে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন।
তাড়াশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. সিরাজুম মুনিরা জুই বলেন, তালের শাঁসের প্রায় পুরোটাই পানি, যা প্রচণ্ড গরমে শরীরের পানিশূন্যতা রোধে অত্যন্ত কার্যকর। এছাড়া এতে থাকা ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস হাড়ের গঠন মজবুত করে এবং দাঁতের এনামেল ভালো রাখতে সহায়তা করে। তিনি আরও বলেন, তালের শাঁসে থাকা প্রাকৃতিক আঁশ বা ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য ও অন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যা দূর করতে এবং হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং দৃষ্টিশক্তি প্রখর করতেও ভূমিকা রাখে। এছাড়া তালের শাঁস রক্তশূন্যতা দূর করতে, লিভার সুরক্ষিত রাখতে এবং ত্বক ও চুলের যত্নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বলেও জানান এই চিকিৎসক।
