মোঃ ফরিদুল ইসলাম সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় এখন আর আগের মত বিদ্যুৎ যায় না, তবে মাঝেমধ্যে আসে। সাটুরিয়ায় এখন ২৪ ঘন্টার ৫ ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকে । এই প্রচন্ড গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় সাটুরিয়া ও ধামরাই বাঁশি একদম অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে (এ যেন এক দুর্ভিক্ষের মত)। মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী ধামরাই এলাকায় মারাত্মক বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে অস্থির হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা। “আগে বিদ্যুৎ যেত, আর এখন মাঝে মধ্যে আসে”—এমনটাই আক্ষেপ স্থানীয় বাসিন্দাদের। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিলছে বলে অভিযোগ সাটুরিয়া ও ধামরাইবাসীর।
চলমান তীব্র তাপদাহের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। ভুক্তভোগীদের মতে, বৈশাখের এই প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুৎহীন দিন কাটানো যেন এক প্রকার অনাহার বা দুর্ভিক্ষের মতো কঠিন পরিস্থিতির রূপ নিয়েছে। বাসাবাড়ির স্বাভাবিক কাজকর্ম স্থবির হয়ে পড়ার পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি কষ্টে রয়েছে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীরা। রাতভর লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটছে, যা দৈনন্দিন শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলছে।
একই সাথে মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও ক্ষুদ্র শিল্পকারখানার উৎপাদন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় সেচ কার্যক্রমও ব্যাহত হওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
সাটুরিয়ার এক ক্ষুব্ধ বাসিন্দা জানান, “গরমে আমরা ঘরে টিকতে পারছি না। দিনরাত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যদি ২০ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ না থাকে, তাহলে মানুষ বাঁচবে কীভাবে? সরকার ও সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগের কাছে আমাদের একটাই আকুল আবেদন—দ্রুত এই তীব্র ভোগান্তি থেকে আমাদের মুক্তি দেওয়া হোক।”
এ বিষয়ে স্থায়ী কোনো সমাধান না এলে সাটুরিয়া ও পার্শ্ববর্তী এলাকার সর্বস্তরের মানুষের ভোগান্তি আরও চরমে পৌঁছাবে। তাই মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া ও ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলার বাসিন্দারা বাংলাদেশ সরকার এবং বিদ্যুৎ বিভাগের প্রতি দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য জোরালো আকুল আবেদন জানিয়েছেন।
