হেলাল উদ্দিন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার ১২ নংলাউর ফতেহপুর ইউনিয়নের গুচ্ছগ্রামের বেহাল দশায় দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সেখানে বসবাসরত শতাধিক পরিবার। ২০০০ সালে আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় নির্মিত টিনশেড ঘরগুলো বর্তমানে অনেকটাই জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি রাস্তাঘাট, পানি নিষ্কাশন, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার নানা সমস্যায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গুচ্ছগ্রামের বিভিন্ন স্থানে চলাচলের রাস্তা ও পথঘাটের অবস্থা নাজুক। বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি জমে কাদা ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে শিশু, নারী, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ দেখা দেয়। অনেক স্থানে বসতঘর ও আশপাশের পরিবেশও জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এসব সমস্যা চলে এলেও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। বিশেষ করে নিরাপদ পানি, পয়ঃনিষ্কাশন, পানি নিষ্কাশন ও রাস্তাঘাটের সমস্যায় তাদের দৈনন্দিন জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে।গুচ্ছগ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যার মধ্যে বসবাস করছি। আমাদের কষ্ট দেখার যেন কেউ নেই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সমস্যাগুলো জানালেও এখনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।”আরেক বাসিন্দা বলেন, “বর্ষাকালে আমাদের দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ছেলে-মেয়েদের স্কুলে যাওয়া এবং অসুস্থ রোগীকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে।”স্থানীয়রা দ্রুত গুচ্ছগ্রামের রাস্তাঘাট সংস্কার, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে জরাজীর্ণ বসতঘরগুলো সংস্কার এবং গুচ্ছগ্রামের সার্বিক উন্নয়নে একটি স্থায়ী পরিকল্পনা গ্রহণেরও দাবি জানান তারা।
এদিকে গুচ্ছগ্রামের দুরবস্থার বিষয়টি নজরে এসেছে লাউর ফতেহপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও মেম্বার পদপ্রার্থী মোহাম্মদ আবু আক্কাসের। তিনি বলেন, “ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান এমপির কাছে আমার আকুল আবেদন—গুচ্ছগ্রামের প্রতি তিনি যেন দৃষ্টি দেন। তিনি যদি সরেজমিনে গুচ্ছগ্রামটি পরিদর্শন করেন, তাহলে এখানকার মানুষের প্রকৃত অবস্থা আরও ভালোভাবে জানতে পারবেন।”গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফুরকান, আমিন হোসেন, মুরশিদ, শিশু মিয়া ও মালেকা বেগমসহ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা তাদের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা ও দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন।
এ বিষয়ে ১২ নংলাউর ফতেহপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “গুচ্ছগ্রামের ঘরবাড়িগুলো সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নানকে জানানো হয়েছে। গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দাদের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ঘরবাড়ি সংস্কারসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।”ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা দ্রুত গুচ্ছগ্রামটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করবেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ নিশ্চিত হবে—এমন প্রত্যাশাই স্থানীয়দের।
