রায়পুরায় ৯ অক্টোবর ‘রায়পুরা ম্যারাথন ২০২৬’অংশ নেবেন দেশ-বিদেশের প্রায় এক হাজার রানার, থাকছে ৪২ কিলোমিটার ফুল ম্যারাথন

অজয় সাহা,রায়পুরা প্রতিনিধি:

নরসিংদীর রায়পুরায় আগামী ৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘রায়পুরা ম্যারাথন ২০২৬’। উপজেলা প্রশাসন ও রায়পুরা রানার্স কমিউনিটির যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিতব্য এ ম্যারাথনে দেশ-বিদেশের প্রায় এক হাজার রানার অংশ নেবেন। চারটি ক্যাটাগরিতে অনুষ্ঠিত হবে এবারের প্রতিযোগিতা।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) উপজেলা হলরুমে আয়োজিত মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদ রানা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনের সংসদ সদস্য ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল।

ইউএনও মো. মাসুদ রানা জানান, এবারের ম্যারাথনে ৪২ কিলোমিটার ফুল ম্যারাথন, ২৫ কিলোমিটার রেস, ১০ কিলোমিটার রেস এবং ১ কিলোমিটার ফ্যামিলি রেস—এই চারটি ক্যাটাগরিতে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। ফ্যামিলি রেসে শিশু ও পরিবারের সদস্যরা অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

আয়োজকরা জানান, ২০২৩ সালে ৪০০ রানার নিয়ে রায়পুরা হাফ ম্যারাথনের যাত্রা শুরু হয়। ২০২৪ সালে অংশ নেন ৭০০ জন এবং ২০২৫ সালে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ৮০০ ছাড়িয়ে যায়। প্রতিবছর অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বাড়ার ধারাবাহিকতায় এবার প্রায় এক হাজার দেশি-বিদেশি রানারের অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করছেন আয়োজকরা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল বলেন, এবারের রায়পুরা ম্যারাথন বড় পরিসরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে এ আয়োজন আরও বৃহৎ পরিসরে করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি মেঘনা নদীতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অংশগ্রহণের সুযোগ রেখে নৌকাবাইচ আয়োজনের ঘোষণাও দেন তিনি।

এবারের ম্যারাথনের অন্যতম বিশেষ দিক হলো সামাজিক দায়বদ্ধতা। আয়োজকদের চ্যারিটি পার্টনার হিসেবে রয়েছে অরফান লাভ ফাউন্ডেশন। ম্যারাথনে অংশগ্রহণকারীদের রেজিস্ট্রেশন ফি-এর একটি অংশ এতিম শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় ব্যয় করা হবে। মানবিক এ উদ্যোগে সংহতি জানিয়ে অনেক রানার অতিরিক্ত ফি দিয়ে অংশ নিচ্ছেন।

রায়পুরা রানার্স কমিউনিটির রেস ডিরেক্টর সবুজ শিকদার বলেন, প্রতিবছর রায়পুরা ম্যারাথনে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বাড়ছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে রায়পুরা ম্যারাথন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিত একটি ক্রীড়া ইভেন্টে পরিণত হবে। ক্রীড়ার সঙ্গে মানবিক কল্যাণকে যুক্ত করাই এবারের আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।

ইউএনও মো. মাসুদ রানা বলেন, দূরদর্শী পরিকল্পনা, দেশি-বিদেশি দৌড়বিদ এবং তরুণ ক্রীড়ামোদীদের অংশগ্রহণে রায়পুরা ম্যারাথন এখন আর শুধু একটি দৌড় প্রতিযোগিতা নয়। এটি স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি, তরুণদের ক্রীড়ামুখী করা এবং সামাজিক সম্প্রীতি গড়ে তোলার একটি বৃহৎ আয়োজন হিসেবে এগিয়ে যাচ্ছে।