মো. তাসলিম উদ্দিন সরাইল(ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
সরাইল উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে মাদক বিরোধী সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবুও থামছে না এ মাদকচক্র “ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে ছোটখাটো মাদকখোর ধরা পড়লেও মাদকচক্রের তারা রয়েছে আড়ালে।মাদক সমাজের সবচেয়ে বড় অভিশাপ। এটি তরুন প্রজন্মকে ধ্বংস করে। এটি পরিবারে অশান্তি আনে এবং সমাজে চুরি, ছিনতাই ও খুনের মতো অপরাধ বাড়ায়। মাদক প্রতিরোধ করতে সবার আগে পরিবারকে সচেতন হতে হবে।মাদক মানুষের মূল চিন্তা করার শক্তি নষ্ট করে। ফলে, শারীরিক ও মানসিক রোগ হয়।মাদকাসক্ত ব্যক্তি পরিবারের সব টাকা শেষ করে। এতে পরিবারগুলো সমাজে সম্মান হারায়। মাদকের টাকা জোগাড় করতে মানুষ নানা অপরাধ করে। চুরি, খুন ও মারামারি অনেক বেড়ে যায়। মাদক কিনতে গিয়ে অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে যায়। এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইল উপজেলার পাকশিমুল ইউনিয়নের পরমানন্দপুর গ্রামে মাদকবিরোধী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।শুক্রবার (১৭ জুলাই) জুমা’র নামাজের পর গ্রামবাসীর উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।পরমানন্দপুর গ্রামের মো.জজ মিয়ার সভাপতিত্বে। আঙুর মিয়ার সঞ্চালনায় মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন মজিবুর রহমান, আবির মিয়া, আবুল কালাম, সরদার সৈকত মিয়া, আলফাজ মেম্বার, সমসো মিয়া, খসরু মিয়া ও খোকন মিয়াসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। মাদকাসক্তি এক ভয়াবহ মরণব্যাধি। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে যেসব সমস্যা বিদ্যমান তার মধ্যে অন্যতম সমস্যা হচ্ছে মাদকের ভয়াল থাবা। যেসব দ্রব্য গ্রহণের ফলে মানুষের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার নেতিবাচক অবনতি ঘটায় এবং এই দ্রব্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পর্যায়ক্রমে তা বৃদ্ধি পায় তাকেই মাদক বলে। দিন দিন মাদকের ব্যবহার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। নিষিদ্ধ জগতে অস্ত্রের পর মাদকই সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসা। বর্তমানে সরাইল উপজেলার এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে মাদকের বেচাকেনা হয় না। শহর থেকে শুরু করে গ্রামেও এটি সহজলভ্য। মাদক হলো একপ্রকার রাসায়নিক দ্রব্য, যা ব্যবহারে মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব পরে। মাদক শুধু মাদকাসক্তের জন্ম দেয় না, সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে মাদকের বিষবাষ্প ছড়ায়। আমাদের দেশে প্রচলিত মাদকদ্রব্যের মধ্যে গাঁজা, ইয়াবা”ফেনসিডিল, মদ, আফিম, হিরোইন, কোকেন, প্যাথেডিন, বিভিন্ন ধরনের ঘুমের ওষুধ, এমনকি জুতার আঠাও রয়েছে। এসব ভয়ানক নেশা জাতীয় দ্রব্য সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে গেছে। এসব মাদকের বেশির ভাগই আসে প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে অনুপ্রবেশের মাধ্যমে। মাদক উৎপাদনকারী দেশ না হয়েও ভৌগোলিক কারণে বাংলাদেশ মাদকের বড় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।মাদক চোরাকারবারিরা সরাইলে বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে মাদকের রুট। উপজেলা যুবসমাজের একটি বিরাট অংশ মাদকের করাল গ্রাসে নিমজ্জিত।দিন দিন যুবসমাজের মাদকের প্রতি আসক্ত হওয়ার প্রবণতা বেড়েই চলেছে। তরুণদের মধ্যে ধূমপান একটি ফ্যাশন বা স্মার্টনেসে পরিণত হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, বর্তমানে দেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা ৭০ লাখেরও বেশি। যেখানে প্রায় ৮০ শতাংশই তরুণ-তরুণী! বিশালসংখ্যক মাদকাসক্তের মধ্যে আবার প্রায় ৫৯ দশমিক ২৭ শতাংশ শিশু-কিশোর সঙ্গদোষ ও বন্ধুবান্ধবদের মাধ্যমে প্রভাবিত হয়ে, ৩৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ কৌতূহলবশত হয়ে মাদক সেবনের মাধ্যমে মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছে। চিকিৎসকদের সাথে কথা বললে তারা বলেন,মাদক সেবনে মানুষের শারীরিক ও মানসিক ক্ষতিসাধন হয়। একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তির মস্তিষ্ক ও শ্বাসযন্ত্রের কার্যক্ষমতা দিন দিন কমতে থাকে। এসব জীবনবিধ্বংসী ক্ষতিকারক দ্রব্য সেবনের ফলে যুবসমাজের সামাজিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় ঘটছে। এরই পরিণাম স্বরূপ ছেলেমেয়ের হাতে বাবা-মা খুন,ছিনতাই, চাঁদাবাজি, রাহাজানি এখনকার নৈমিত্তিক ঘটনা। মাদকের এসব ভয়াবহ প্রভাব থেকে সন্তানদের রক্ষার জন্য অভিভাবকসহ পুরো জাতি আজ শঙ্কিত। মাদকাসক্ত হওয়ার প্রধান কারণ হলো মাদকের সহজলভ্যতা। এছাড়া পারিবারিক কলহ, বেকারত্ব, প্রত্যাশার সঙ্গে প্রাপ্তির অসামঞ্জস্যতা, হতাশা ইত্যাদি কারণেও যুবসমাজ মাদকের প্রতি আসক্ত হচ্ছে। স্কুল, কলেজ এমনকি হোম ডেলিভারির মাধ্যমে ও মাদক পৌঁছে গেছে।
যুব সমাজকে রক্ষা করতে এবং মাদক নির্মূলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সহ অভিভাবকদের এগিয়ে আসার অনুরোধ করা হয় সরাইল উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা সভায়। সভায় মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান পরিচালনা করে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদেরকে গ্রেফতার করতে অনুরোধ জানান উপস্থিত বক্তারা।
