ফরিদপুর ব্যুরো
ফরিদপুরে ১৭ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে সুমন মোল্লা (২১) ও মো. ওসমান বেপারী (৩১) নামের দুই আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা অনাদায়ে প্রত্যেককে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দুই আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে পুলিশ পাহারায় তাদের ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরী রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার একটি মাদ্রাসার ছাত্রী। ২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর প্রেমিকের সঙ্গে চলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে সে বাড়ি থেকে বের হয়। পরে প্রেমিক না আসায় সে মামাতো ভাই রিয়াজ বেপারীকে ফোন করে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ করে।
এরপর রিয়াজ বেপারী তাকে ফরিদপুর শহরের ভাটিলক্ষ্মীপুর মহল্লায় সৈয়দ ফকিরের বাড়িতে নিয়ে যান। পরদিন ১৮ অক্টোবর সকালে রিয়াজ বাইরে চলে গেলে তার দুই বন্ধু সুমন মোল্লা ও মো. ওসমান বেপারী ওই কিশোরীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন বলে মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়।
এ ঘটনায় কিশোরীর মা বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় সুমন মোল্লা, মো. ওসমান বেপারী ও রিয়াজ বেপারীকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।মামলাটি তদন্ত শেষে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) জাফর ইকবাল ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তিন আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত সুমন মোল্লা ও মো. ওসমান বেপারীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন।
রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া বলেন, এ রায় নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপরাধ কমাতে ভূমিকা রাখবে এবং এটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। অপরাধ করে কেউ পার পাবে না—এমন বার্তা সমাজে পৌঁছাবে।
