মোঃ রুহুল আমিন রাজু, জামালপুর প্রতিনিধি
বাংলাদেশ পুলিশের ক্যাডেট এএসআই (নিরস্ত্র) পদে নিয়োগ কার্যক্রমকে শতভাগ স্বচ্ছ, মেধাভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্ত রাখতে জামালপুর জেলা পুলিশের তৎপরতার অংশ হিসেবে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণার চেষ্টাকালে দুই প্রতারককে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এ ঘটনায় জামালপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। যাহার মামলা নং-৬৩, তারিখ ২০ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে রুজু করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাদারগঞ্জ উপজেলার বানীকুঞ্জ এলাকার বাসিন্দা মোঃ আব্দুল কাইয়ুমের ছেলে কাফি আল সাকিব সিয়ামকে বাংলাদেশ পুলিশে ক্যাডেট এএসআই (নিরস্ত্র) পদে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র ২৫ লাখ টাকা দাবি করে। চাকরি হওয়ার পর টাকা পরিশোধের শর্তে ভুক্তভোগী পরিবারের কাছ থেকে একটি স্বাক্ষরিত ব্ল্যাংক চেক ও তিনটি স্বাক্ষরিত ব্ল্যাংক নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প গ্রহণ করা হয়। পাশাপাশি চাকরি নিশ্চিত করার নামে একটি কথিত চুক্তিপত্রও সম্পাদন করা হয়।
বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে ভুক্তভোগী পক্ষ জামালপুর জেলা গোয়েন্দা শাখাকে অবহিত করে। পুলিশ সুপার মোছাঃ ফারহানা ইয়াসমিনের সার্বিক নির্দেশনায় ডিবি পুলিশের ওসি আব্দুল কাইয়ুম এর তত্ত্বাবধানে জেলা ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল অভিযান পরিচালনা করে প্রতারণার সঙ্গে জড়িত দুই ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করে।
গ্রেফতারকৃতরা হলো— মোঃ শরিফুল ইসলাম ওরফে শিশির (২৭), মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর বাজার এলাকার বাসিন্দা এবং মোঃ রকিবুল ইসলাম রকিব (৩৮), পাবনা জেলার আতাইকুলা থানার চরপাড়া (গাঙ্গহাটি) এলাকার বাসিন্দা। অভিযানে উদ্ধার করা হয় সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’র একটি স্বাক্ষরিত ব্ল্যাংক চেক, ছয়টি স্বাক্ষরিত নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প, চাকরি প্রদানের নামে সম্পাদিত কথিত চুক্তিপত্র এবং প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, গ্রেফতারকৃতরা পরস্পর যোগসাজশে চাকরিপ্রত্যাশী ও তাদের অভিভাবকদের সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অপচেষ্টা চালিয়ে আসছিল।
এ বিষয়ে জামালপুর জেলার পুলিশ সুপার মোছাঃ ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, “বাংলাদেশ পুলিশে নিয়োগ সম্পূর্ণ মেধা, যোগ্যতা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়। চাকরি দেওয়ার নামে কেউ অর্থ দাবি করলে বা প্রতারণার চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে অবহিত করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
তিনি আরও জানান, গ্রেফতারকৃত দুই আসামিকে আজ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
জেলা পুলিশের এই সফল অভিযানে চাকরির নামে প্রতারণার একটি বড় অপচেষ্টা নস্যাৎ হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা করতে জামালপুর জেলা পুলিশের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
