সাহেদ চৌধুরী, ফেনী জেলা প্রতিনিধি
সোশাল মিডিয়ার অপপ্রচার নিয়ে আমাদের সতর্ক হতে হবে সংঘাত নয়,শান্তি ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ি’ এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও স্থায়িত্বশীল শান্তি প্রতিষ্ঠায় ফেনীতে আন্ত:ধর্মীয় সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকালে শহরের হোটেলে রেডিক্সে দি হাঙ্গার প্রজেক্টের আয়োজেনে পিস এম্বাসাডর গ্রুপ (প্যান) এর আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) ফাতিমা সুলতানা।
পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপ পিএফজি ফেনীর কো-অর্ডিনেটর প্রভাষক মোর্শেদ হোসেনের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নিশাত তাবাসসুম,জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক গাজী হাবিবউল্লাহ মানিক,জেলা জামায়াতের প্রচার সম্পাদক আ.ন.ম আব্দুর রহিম,জেলা বিএনপির সদস্য এডভোকেট পার্থ পাল চৌধুরী ও শহর জামায়াতের আমীর ইঞ্জিনিয়ার নজরুল ইসলাম। সংলাপে আরো বক্তব্য রাখেন ডিবিসির ফেনী প্রতিনিধি আবু তাহের,দাগনভূইয়া উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান জাহানারা আক্তার, ইমাম সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাফেজ জাকির হোসেন,খ্রিস্টান সম্প্রদায় থেকে সুদীব সরকার দিলু,বৌদ্ধ সম্প্রদায় থেকে জোতিষ চন্দ্র বড়ুয়া, হিন্দু সম্প্রদায় থেকে নারায়ণ চক্রবর্তী ও পিএসজি পরশুরাম কো-অর্ডিনেটর এম এ হাসানসহ প্রমুখ,নারী নেত্রী জাহানারা আক্তার মনি। স্বাগত বক্তব্য রাখেন আঞ্চলিক কো-অর্ডিনেটর সৈয়দ মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এরিয়া কো-অর্ডিনেটর মো: রাসেল আহমেদ এবং ঘোষণাপত্র পাঠ করেন পরশুরাম এ্যাম্বাসের জোহরা আক্তার রুমা।বক্তারা বলেন,“হাজার বছর ধরে আমরা হিন্দু-মুসলিম একসাথে বসবাস করি। এক ধর্মের লোক অন্য ধর্মের অনুষ্ঠানে যেয়ে থাকি। আমরা চেষ্টা করি আমাদের অন্য ধর্মের লোকের প্রতি অন্যায় যেন না হয়। আমাদের যদি ৫ জন বন্ধু থাকে সেখানে অন্তত একজন অন্য ধর্মের লোক থাকে। আর এটাই বাংলাদেশের ঐতিহ্য। ধর্মীয় সম্প্রীতিটা আমাদের ঐতিহ্য। এভাবে আমরা আমাদের ঐতিহ্য বজায় রাখি।” তারা আরো বলেন,“আমাদের সম্প্রীতিকে অনেকে নষ্ট করতে চায়। হয়তো আমরা সচেতন বলে বড় ধরনের সংঘাত এড়িয়ে যেতে পারি। কিন্তু অনেকে স্বার্থ হাসিলের জন্য ধর্মকে ব্যবহার করতে চায়। বিশেষ করে বর্তমান সোশ্যাল মিডিয়ার যুগ। সবার ঘরে ঘরে এটা ব্যবহার হয়ে থাকে। সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে যে কোন বড় ঘটনা ঘটানো এখন সম্ভব। বিশেষ করে গুজব ছড়িয়ে সংঘাত তৈরি করা হয়। ছোটখাটো গুজব থেকে তা বড় ধরনের সংঘাতে রুপ নেই। এক্ষেত্রে আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। আমাদের আরো সচেতন হতে হবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু আসলে তা আগে ফ্যাক্ট চেক করতে হবে।”বক্তারা আরো বলেন,“প্রতিটি ধর্মই শান্তি চায়। সব ধর্মে শান্তির কথা বলা আছে। কোন ধর্ম সংঘাত চায় না। পাশ্ববর্তী দেশে কি হচ্ছে তা আমাদের ভাবলে হবে না। আমাদের বিষয় আমাদেরকে ভাবতে হবে। আমরা আমাদের প্রতিবেশী নিয়ে ভাববো। এ ক্ষেত্রে ধর্মীয় নেতা,রাজনীতিবিদ,সুশীল সমাজের লোকদের এগিয়ে আসতে হবে।”তারা বলেন,“আমরা কোথায় না পারি,অন্তত ফেনী আমাদের নিজ জেলা। এ জেলার সম্প্রীতির বিষয়ে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ফেনীর শত শত বছরের যে ধর্মীয় সম্প্রীতি সেটা যেন বিনষ্ট না হয় সেটা আমাদের দেখতে হবে। এক্ষেত্রে আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।”
