আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমগুলোর মধ্যে বিরল সংহতির প্রকাশ ঘটেছে। সিএনএন, এমএস নাও এবং পলিটিকোর ওপর হোয়াইট হাউজের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর বিভিন্ন সংবাদপ্রতিষ্ঠান ও সাংবাদিক সংগঠন তাদের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলো আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বহু গণমাধ্যম ও পেশাজীবী সংগঠন এ পদক্ষেপের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।
এর প্রভাব সংবাদ কাভারেজেও দেখা গেছে। সোমবার থেকে বিভিন্ন মার্কিন গণমাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ছবি ও ভিডিও প্রচার তুলনামূলকভাবে কমে যায়। যদিও কোনো সংবাদমাধ্যম তাঁর খবর সম্পূর্ণ বর্জন করেনি, তবে ছবি ও ভিডিও ব্যবহারে এক ধরনের নীরব সমন্বয় লক্ষ্য করা গেছে।
ফক্স নিউজের উপস্থাপক ব্রেট বেয়ার জানান, জাতিসংঘে ট্রাম্পের একাধিক কর্মসূচি থাকলেও সংবাদমাধ্যমগুলোর মধ্যে সংহতির কারণে নিয়মিত প্রেস পুলে সিএনএনের পরিবর্তে অন্য কোনো টেলিভিশন নেটওয়ার্ক দায়িত্ব নিতে আগ্রহ দেখায়নি।
হোয়াইট হাউজ সিএনএনের বিকল্প হিসেবে অন্য নেটওয়ার্ককে দায়িত্ব দেওয়ার চেষ্টা করলেও গ্রে টিভিসহ কয়েকটি সংবাদপ্রতিষ্ঠান সে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ছবি প্রকাশেও প্রতিবাদ
ট্রাম্পের বিভিন্ন কর্মসূচির ছবি ধারণকারী আলোকচিত্রীদের মধ্যেও সংহতির প্রতিফলন দেখা গেছে। সোমবার অনেক আলোকচিত্রী ট্রাম্পের ছবি প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নেন।
ওয়াশিংটন পোস্ট এ পদক্ষেপকে বিভিন্ন সংবাদকক্ষের আলোকচিত্রীদের যৌথ উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছে। নিউইয়র্ক টাইমসও হোয়াইট হাউজের স্টিল ফটোগ্রাফি পুল থেকে তোলা ছবি প্রকাশ বা বিতরণ না করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়া সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতি সমর্থন জানাতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে পত্রিকাটি উল্লেখ করে।
এপি ও এনপিআরের অবস্থান
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) সোমবার প্রেসিডেন্টের কর্মসূচি-সংক্রান্ত কোনো ছবি প্রকাশ করেনি। একইভাবে পাবলিক রেডিও নেটওয়ার্ক এনপিআর সাময়িকভাবে ট্রাম্পের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের অডিও সম্প্রচার থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নেয়।
হোয়াইট হাউজের সংবাদকর্মীদের কর্মস্থলেও প্রতিবাদের বার্তা সম্বলিত পোস্টার দেখা যায়। একটি পোস্টারে লেখা ছিল, ‘আই স্ট্যান্ড উইথ এপি, সিএনএন, এমএস নাও, পলিটিকো’।
সাংবাদিক সংগঠনগুলোর সমর্থন
ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পেন্টাগন প্রেস অ্যাসোসিয়েশন, সোসাইটি অব প্রফেশনাল জার্নালিস্টস, নিউইয়র্ক টাইমস, দ্য আটলান্টিকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছে।
এ ছাড়া নিউইয়র্কার, ফিন্যান্সিয়াল টাইমস ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালসহ একাধিক সংবাদমাধ্যম কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টসের প্রধান জোডি গিন্সবার্গের উদ্যোগে প্রকাশিত একটি খোলা চিঠিতে স্বাক্ষর করেছে। চিঠিতে নিষেধাজ্ঞাকে ‘বিপজ্জনক নজির’ হিসেবে অভিহিত করা হয়।
গিন্সবার্গ বলেন, ক্ষমতাসীনদের জবাবদিহির আওতায় আনা স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের অন্যতম দায়িত্ব। কোনো সরকার কোন সাংবাদিক বা সংবাদমাধ্যম তাদের কার্যক্রম কভার করবে, তা নির্ধারণ করতে পারে না।
প্রতিযোগিতার ঊর্ধ্বে ঐক্য
সাধারণত সংবাদ, এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদন, পাঠকসংখ্যা ও সাংবাদিক নিয়োগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা থাকে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তের পর তারা একটি অভিন্ন অবস্থানে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা শুধু সংশ্লিষ্ট তিনটি সংবাদমাধ্যমের প্রশ্ন নয়; বরং ভবিষ্যতে অন্য গণমাধ্যমও একই ধরনের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই সংবাদমাধ্যমগুলো ঐক্যবদ্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।
