রফিকুল ইসলাম,সিরাজগঞ্জ
সিরাজগঞ্জে এবার পাট (সোনালি আঁশ) চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় পুরোদমে পাট কাটা শুরু হয়েছে। খাল-বিলে বন্যার পানিতে জাগ দেওয়া পাট ধোয়া ও আঁশ ছাড়ানোর কাজ চলছে। ইতোমধ্যে নতুন পাট স্থানীয় হাট-বাজারে উঠতে শুরু করেছে। বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকদের মুখে ফুটেছে হাসি।
জানা যায়, জেলার ৯টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় ১৬ হাজার হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে কৃষকেরা লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে পাটের আবাদ করেছেন। খরচের তুলনায় লাভ বেশি হওয়ায় পাট চাষের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। কৃষকেরা বিভিন্ন জাতের পাটবীজ সংগ্রহ করে আবাদ করেছেন। জেলার চরাঞ্চল ছাড়াও কাজিপুর, শাহজাদপুর, রায়গঞ্জ, উল্লাপাড়া, কামারখন্দ ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ব্যাপকভাবে পাট চাষ হয়েছে। আবাদ করা জাতগুলোর মধ্যে রবি-১, জেআরও-৫২৪, দেশি, তোষা ও মেছড়া পাট উল্লেখযোগ্য।
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, প্রায় তিন যুগ আগে জেলার বিভিন্ন স্থানে নানা জাতের পাটের চাষ হতো। বর্ষা মৌসুমে পাট কাটা ও ধোয়ার কাজে গ্রামাঞ্চলে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হতো। পাটের শোলা খাল-বিল ও নদী-নালার ঘাটে স্তূপ করে রাখা হতো। সে সময় পাট চাষে খরচ বাদেও ভালো লাভ হতো। তবে পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন স্থানে জুটমিল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পাটের চাষ ক্রমাগত কমে যায়। বিশিষ্টজনেরা বলছেন, প্রায় নয় বছর আগে দেশের বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকটি জুটমিল পুনরায় চালু হওয়ায় পাটের চাহিদা ও দাম কিছুটা বাড়তে শুরু করে। ফলে কৃষকদের মধ্যে পাট চাষে আগ্রহও বৃদ্ধি পায়।
এ বছর সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। উৎপাদন ভালো হওয়ার পাশাপাশি বাজারে দামও সন্তোষজনক হওয়ায় কৃষকেরা খুশি। কয়েক সপ্তাহ ধরে পুরোদমে পাট কাটা চলছে। বন্যার পানিতে যমুনা নদী ও এর শাখা নদীসহ খাল-বিল পানিতে পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কৃষকেরা এসব স্থানে পাটের জাগ দিচ্ছেন। জাগ পচে গেলে কৃষক-কৃষাণীরা পাট ধোয়া ও আঁশ ছাড়ানোর কাজ করছেন। বর্তমানে নতুন পাট স্থানীয় হাট-বাজারে প্রতি মণ গড়ে ৪ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক একেএম মঞ্জুরে মাওলা বলেন, সংশ্লিষ্ট উপজেলা কৃষি বিভাগের পরামর্শে কৃষকেরা পাট চাষ করেছেন। খরচ কম ও লাভ বেশি হওয়ায় পাট চাষের পরিধি বাড়ছে। এ বছর পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকেরা বেশ সন্তুষ্ট।
লামায় মোটরসাইকেল চালক অপহরণের অভিযোগ, মুক্তিপণ দাবি; ৪০ হাজার টাকা পাঠানোর দাবি
আল আমিন, লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি
বান্দরবানের লামা উপজেলার ৫নং সরই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পুলাংপাড়া এলাকার বাসিন্দা জিয়াউর রহমান (৫০), পেশায় একজন ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালক। তাকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ জুলাই ২০২৬ (মঙ্গলবার) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে জিয়াউর রহমান নিজের মুঠোফোন থেকে বাড়িতে ফোন করে জানান, তাকে কে বা কারা আটকে রেখেছে। এরপর তার মুক্তির জন্য ১ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় বলে পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন।কেয়াজুপাড়া সিএনজি-মোটরসাইকেল সমিতির সভাপতি জাবেদ জানান, দাবিকৃত ১ লাখ টাকার মধ্যে একটি অপরিচিত বিকাশ নম্বরে ইতোমধ্যে ৪০ হাজার টাকা পাঠানো হয়েছে। তবে এরপরও জিয়াউর রহমানকে মুক্তি দেওয়া হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।এ ঘটনায় জিয়াউর রহমানের পরিবার আইনের আশ্রয় নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।এ বিষয়ে সরই পুলিশ ফাঁড়ির কর্তব্যরত কর্মকর্তা বলেন, “ভুক্তভোগীর পরিবার লিখিত অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”ঘটনার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত শুরু করলে এবং নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে জানানো হবে।
