ব্যুরো চীফ,ফরিদপুর
ফরিদপুর পৌর এলাকার নির্ধারিত রিকশা স্ট্যান্ডগুলো প্রভাবশালীদের দখলে চলে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান চালকরা। স্ট্যান্ড না থাকায় বাধ্য হয়ে সড়কের ওপর রিকশা রাখতে হচ্ছে। এতে যানজট বাড়ার পাশাপাশি পুলিশি হয়রানির শিকারও হচ্ছেন তারা।এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান ও দখলমুক্ত স্ট্যান্ডগুলো চালকদের ব্যবহার উপযোগী করার দাবিতে বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬ বিক্ষোভ-সমাবেশ ও জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে ফরিদপুর জেলা ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন।আলিপুর থেকে পোস্ট অফিস পর্যন্ত বিক্ষোভসকাল সাড়ে ১০টার দিকে আলিপুর মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলটি ফরিদপুর প্রধান পোস্ট অফিসের সামনে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।সংগঠনের সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মো. সোহাগ, নুরুদ্দিন খান, আক্কাছ জমাদার, মো. রতন, মো. মুননুসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।বক্তারা বলেন, পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় রিকশাচালকদের জন্য নির্ধারিত স্ট্যান্ড থাকলেও তা এখন দখল হয়ে গেছে। ফলে চালকরা যথাস্থানে রিকশা রাখতে পারছেন না। এর মধ্যে বিশেষভাবে “শ্যামলী পৌর মার্কেটের সামনে, তিতুমীর বাজার ১ নম্বর গেট, থানার মোড় এবং হাজী শরীয়তউল্লাহ বাজার” এলাকার স্ট্যান্ডগুলো দ্রুত দখলমুক্ত করার দাবি জানান তারা।সমাবেশ শেষে শ্রমিকরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি জমা দেন। স্মারকলিপি গ্রহণ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক মো. সোহরাব হোসেন।২০০৭ সালের পর আর হালনাগাদ নেইএদিকে স্ট্যান্ড সংকটের বিষয়ে ফরিদপুর পৌরসভার লাইসেন্স পরিদর্শক রাশেদ বিন আহম্মেদ এই প্রতিবেদককে বলেন, “পৌরসভার ২০০৭ সালের কাগজ অনুযায়ী ফরিদপুরে মোট ৩৪টি রিকশা স্ট্যান্ড আছে। প্রতিটি স্ট্যান্ডে কতগুলো রিকশা দাঁড়াবে তার সংখ্যা লেখা সাইনবোর্ডও লাগানো আছে।”তবে তিনি স্বীকার করেন, “২০০৭ সালের পরে স্ট্যান্ডের সংখ্যা বা অবস্থান নিয়ে কাগজে আর কোনো আপডেট করা হয়নি।”
চালকদের ক্ষোভ ও দাবি শ্রমিক নেতারা অভিযোগ করে বলেন, শহর সম্প্রসারিত হয়েছে, রিকশার সংখ্যা বেড়েছে। কিন্তু ১৮ বছর ধরে স্ট্যান্ডের তালিকা হালনাগাদ না হওয়ায় নতুন এলাকায় স্ট্যান্ড নেই। আবার পুরনো স্ট্যান্ডগুলো চটপটি, ফুসকা, চা ও কাপড়ের দোকানদারদের দখলে। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, এর আগেও ২৬/০৪/২০২৬ তারিখে একই বিষয়ে পৌরসভায় আবেদন করা হয়েছিল। এর প্রেক্ষিতে পৌরসভা কিছু সাইনবোর্ড পুনঃস্থাপন করলেও স্ট্যান্ডগুলো দখলমুক্ত হয়নি।“আমরা রাস্তায় রিকশা রাখতে গিয়ে ট্রাফিকের মামলা ও জরিমানা দিচ্ছি। অথচ আমাদের জন্য বরাদ্দ স্ট্যান্ডেই আমরা ঢুকতে পারছি না। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যাব” – বলেন সংগঠনের সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান।প্রশাসন যা বলছে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক মো. সোহরাব হোসেন স্মারকলিপি গ্রহণ করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।লাইসেন্স পরিদর্শক রাশেদ বিন আহম্মেদ জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে এবং প্রয়োজনে নতুন করে জরিপ করে স্ট্যান্ডের তালিকা হালনাগাদ করা প্রয়োজন।চালক ও সাধারণ মানুষের দাবি, অবিলম্বে দখলদারদের উচ্ছেদ করে স্ট্যান্ডগুলো উদ্ধার এবং নতুন করে জরিপের মাধ্যমে স্ট্যান্ডের সংখ্যা বাড়ানো হলে ফরিদপুর শহরের যানজট অনেকটাই কমবে।
