মো.তাসলিম উদ্দিন সরাইল(ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
সরাইলে বর্তমানে মাদকের ব্যবহার ও এর ভয়াবহতা এক উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা তরুণ সমাজসহ পুরো জাতির ভবিষ্যতের জন্য হুমকি স্বরূপ। মাদক কেবল একজন ব্যক্তির শরীর ও মন ধ্বংস করছে না, বরং পারিবারিক ও সামাজিক কাঠামোকেও ভেঙে ফেলছে।
মাদকের অপব্যবহার সরাইলে আইন-শৃঙ্খলার অবনতির অন্যতম প্রধান কারণ, যা সামাজিক ও পারিবারিক শান্তি নষ্ট করছে। আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, মাদকাসক্তরা অর্থের যোগান পেতে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই এবং খুনের মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি অনুরোধ জানানো হয় এ সভায়।ইয়াবা বতর্মান সমাজের সবচেয়ে বড় কাঁটা । নেশার উপাদানের মধ্যে মাথাব্যথার বড় কারণ ইয়াবা। তরুণ সমাজের কাছে ইয়াবা সর্বাধিক জনপ্রিয় এবং পাচারের ক্ষেত্রে তুলনামূলক সহজ। এর কারণ ইয়াবার গঠন। ছোট ট্যাবলেট আকৃতির এই নেশাদ্রব্য যে কোনো স্থানে অধিক পরিমাণ লুকিয়ে রাখা যায়। নেশাগ্রস্তদের কাছে ইয়াবা ‘বাবা’ নামে পরিচিত। ইয়াবার নেশায় আজ শহরসহ গ্রামা ঞ্চলের যুব সমাজ বুঁদ হয়ে রয়েছে। প্রতিদিন প্রতিক্ষণ ইয়াবা আসক্ত ব্যক্তির সংখ্যা বাড়ছে।
সরাইল উপজেলা আইন- শৃঙ্খলা সভায় মাদক সহজ ভাবে পাওয়া যাচ্ছে। সরাইলের প্রত্যেকটি মোড়ে প্রত্যেকটি চা দোকানের আড়ালে মাদক বা ইয়াবা বসে বসে সুখ টান দিচ্ছে। গাঁজা ফিনসিডিল এখন হাত বাড়াইলে পাওয়া যাচ্ছে ইয়াবা। আইন- শৃঙ্খলা সভায় বক্তারা মাদকের নির্মূলে প্রশাসনের পাশাপাশি সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। আবার শুরু হয়েছে পার্সেল করে ঘরে ঘরে পৌঁছে দিচ্ছে মাদক। এই পেশায় বেশি যুক্ত হয়েছে নারীরা। ইয়াবা বহন করার সহজ এবং ঘরে ঘরে পৌঁছে দিচ্ছে মাদক সেবীদের হাতে। এখন যদি মাদক থেকে যুব সমাজকে রক্ষা করতে না পারে। ধ্বংস হবে সমাজ ব্যবস্থা। এই মাদকের কারণে এলাকায় বেড়েছে চুরি ডাকাতি। বক্তারা বলেন, মাদকের টাকা না পেয়ে তারা পরিবারের উপরে আক্রমণ করে। এমন ঘটনা সরাইলে প্রতিদিনই ঘটছে।এ মাদকগুরুত্ব মাদক হুরদের ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযান পরিচালনা করতে অনুরোধ জানান। গত ১৪ মে সরাইলে আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক মত বিনিময় সভায় বক্তারা এ আনুরোধ করেন। এ সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ। বক্তারা বলেন, মাদকাসক্তি হচ্ছে সব অপরাধের মূল। একজন মানুষ যখন অপরাধ জগতে পা বাড়ায়,প্রথম সিঁড়িটি হলো মাদকদ্রব্য।সরাইল যত আইন-শৃঙ্খলা অবনতি হচ্ছে কোন হত্যা- চুরি ডাকাতি যা হচ্ছে সব মাদকের কারণে। মাদক উপজেলা সর্বস্তরের ছড়িয়ে পড়েছে। মাদকের এই ভয়াবহ থেকে যুব সমাজকে উদ্ধার করতে না পারলে। ধ্বংস হবে যুবসমাজ,বিনষ্ট হবে পারি বারিক শান্তি। চান্দুরা হয়ে ঢাকা-সিলেট হাইওয়ে দিয়ে সরাইলে তিনটি স্তরে মাদক ঢুকে। এ মাদক রোদে প্রশাসনকে কাজ করার আহ্বান জানান বক্তারা। জানাযায়, আশির দশকে আমাদের দেশে হেরোইনের আগ্রাসন ঘটে। ওই দশকের শেষ দিকে ফেনসিডিল মাদক রাজ্যের চালিকাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়। নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে ইয়াবার আগমন ঘটে মাদক রাজ্যে। প্রথম দিকে এ আগ্রাসনকে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এখন ইয়াবার থাবায় আক্রান্ত দেশের প্রায় প্রতিটি এলাকা। অভিজাত তরুণ-তরুণীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ইয়াবা নেশায় আসক্ত। যেকোনো পরিবার এবং সমাজের জন্য মাদকাসক্ত ব্যক্তি হুমকিস্বরূপ। মাদকাসক্ত ব্যক্তি অন্যায় কাজ করতে দ্বিধা বোধ করে না। তারা সমাজের অনেক ক্ষতি করে থাকে। মাদকাসক্তির কারণেই পারিবারিক অশান্তি,চাঁদাবাজি, ছিনতাই-রাহাজানি, ডাকাতি ও খুনখারাবির ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে; যা সমাজে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধিসহ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।মাদকাসক্তি সংঘটিত অপরাধের একাংশের প্রধান নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে। পারিবারিক বিপর্যয়গুলো বিশেষজ্ঞদের বুকে কাঁপন ধরিয়ে দিচ্ছে। এই সর্বনাশ মাদক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট চক্রকে মোটেও বিচলিত করে না। তারা কেবলই বোঝে ব্যবসা। তরুণ প্রজন্মের হাতে তুলে দিচ্ছে মরণনেশার উপকরণ মাদক। তরতাজা তরুণদের মেধা, বিবেক, লেখাপড়া, মনুষ্যত্ব সবকিছু ধ্বংস করে দিচ্ছে ইয়াবার ভয়াবহ নেশা। বিনষ্ট করে দিচ্ছে স্নেহ, মায়া, ভালোবাসা, পারিবারিক সুবন্ধন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলার এক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বলেন, ক্ষমতাধর এসব মাদক ব্যবসায়ীরা সবাই অল্পবয়সী। এরা মাদকের ব্যবসার সাথে জড়িত একথা শুনলে কেউ বিশ্বাসও করবে না। কারণ এরা সবাই ভালো পরিবারের সন্তান। প্রতিদিন সকাল বেলা উন্নতমানের পোশাক পরে বাড়ি থেকে বের হয়, আর রাতে বাড়িতে ফেরে। পোশাকধারী এসব যুবকদের পকেটে থাকে ইয়াবা ট্যাবলেট যা প্রকাশ্যে হাট-বাজার, পাড়া-মহল্লায় ঘুরে ঘুরে বিক্রি করে পরিচিত মাদক সেবনকারীদের কাছে। এ কারণে এসব আল্পবয়সী মাদক ব্যবসায়ীরা আসছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে।এদিকে তথ্য মতো জানা যায়, ঢাকা সিলেট মহাসড়ক কে ব্যবহার করে মাদক পাচারকারীরা। সহজে সরাইল উপজেলা সহ অন্যান্য উপজেলার মাদক পৌঁছে দিচ্ছে।কোন কোন সময় পুলিশের হাতে ধরা পড়লেও মাদকের বড় সিন্ডিকেট গ্রুপ রয়ে যায় আড়ালে।মা-বাবার চোখের সামনে মাদকাসক্ত হচ্ছে ছেলে। এ কষ্ট কিভাবে মেনে নেবে অভিভাবকরা। তাই মাদকাসক্ত সন্তানদের নিয়ে চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন শিক্ষার্থীরে বাবা-মা। স্থানীয়রা বলেন, সরাইল তথা দেশের যুবসমাজকে রক্ষা করতে হলে এসব মাদক ব্যবসায়ীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে হবে। তা না হলে যুব সমাজ ধংস হবে।চুরি ছিনতাই,খুন অপরাধ বেড়ে যাবে।আর এ জন্য পুলিশকে আরো সক্রিয়ভাবে মাঠে নামতে হবে। এবং অভিয়ান পরিচালনা করে মাদক ব্যাবসায়ীদের গ্রেফতার করে কঠিন বিচারের আওতায় আনতে হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ বলেন, “মাদকের বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেয়া হবে না। জলাবদ্ধতা নিরসন ও মাদক প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।”
