হেলাল উদ্দিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগর প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রাণঘাতী সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। যাত্রীবাহী ইঞ্জিনচালিত নৌকায় বসাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া তর্কাতর্কি একপর্যায়ে রূপ নেয় হাতাহাতিতে, আর সেই সংঘর্ষেই ঘুষির আঘাতে হানিফ মিয়া (৫৫) নামের এক ব্যক্তি মারা গেছেন।
রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে নবীনগর উপজেলা সদরের মনুবাবুর নৌ-ঘাট এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত হানিফ মিয়া উপজেলার পূর্ব ইউনিয়নের বগডহর গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত হারিজ মিয়ার ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বগডহর-মোহল্লা থেকে মেরকুটা গ্রামগামী যাত্রীবাহী একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় বসা নিয়ে প্রথমে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে এ বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করে।
মোহল্লা গ্রামের আব্বাস খা মেম্বার বাড়ির মোহাম্মদ খা-এর ছেলে এলেম খা’র সঙ্গে হানিফ মিয়ার বাকবিতণ্ডা চলাকালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এলোপাতাড়ি ঘুষির আঘাতে হানিফ মিয়া নৌকার ভেতরেই লুটিয়ে পড়েন।
হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত্যু
ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় হানিফ মিয়াকে দ্রুত নবীনগর উপজেলা সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালের চিকিৎসক অংকন রায় জানান, “হানিফ মিয়াকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল।”
নবীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তিনি জানান, “কেউ বলছে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে যান, আবার কেউ বলছে ঘুষির আঘাতেই তিনি লুটিয়ে পড়েন।”
তিনি আরও বলেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, তুচ্ছ বিষয় নিয়ে এমন প্রাণঘাতী সংঘর্ষ অত্যন্ত দুঃখজনক এবং উদ্বেগজনক। অনেকেই দ্রুত বিচার এবং দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এই ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দেয়, সামান্য বিরোধ কীভাবে মুহূর্তেই ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
