খ.শারিফা আলম শিমু, পাবনা:
দীর্ঘ প্রায় একযুগ পর পাবনা ক্যাডেট কলেজ থেকে ভাঙ্গুড়া উপজেলার ভেড়ামারা ভায়া ধানুয়াঘাটা হাটগ্রাম অংশের সাড়ে তিন কিলোমিটার রাস্তা সংস্কারের ফলে চলন বিল অঞ্চলের কৃষকেরা স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল হওয়ায় শিক্ষা ও চিকিৎসা সেবাও উন্নতি ঘটেছে বলে জানান এলাকাবাসী।
সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, পাবনা ক্যাডেট কলেজ থেকে ভাঙ্গুড়া উপজেলা পর্যন্ত ২৬ কিলোমিটার রাস্তা চলন বিলের ভেতর দিয়ে নির্মান করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর। ফলে জেলার চারটি উপজেলার কৃষক ও সাধারন জনগনের চলাচল, কৃষিপন্য বাজারজাত করন, প্রাথমিক থেকে উচ্চ শ্রেনী পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের সহজতর শিক্ষা গ্রহন, অতিদ্রুত ওই চার উপজেলার মুমুর্ষ রোগীদের সহজে জেলো সদরে চিকিৎসা সেবা গ্রহন করতে অগ্রনী ভুমিকা পালনে সহায়ক এ রাস্তাটি। কিন্তু দীর্ঘ প্রায় একযুগ এ রাস্তাটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়লে চলনবিলের উৎপাদিত শষ্য বাজারজাত, শিক্ষার্থীদের চলাচল ও এ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল না করতে পারায় ওই চার উপজেলার মানুষ বিপাকে পড়ে। দীর্ঘ প্রায় ৬০ কিলোমিটার ঘুরে জেলা সদরের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতে হত তাদের। ফলে এ এলাকার উৎপাদিত পন্যর পরিবহন ব্যয় বেড়ে বাজারে দ্রব্যমুল্যের দাম বৃদ্ধি পেত।
হাট গ্রাম সরকারী ্রাথমিক ব্যিালয়ের প্রধান শিক্ষক রওশন আলী বলেন, আমি নয় বছর আগে এ স্কুলে যোগদানের পর রাস্তটি খারাপ থাকায় বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থী ছিল এক শত বাহান্নজন। রাস্তাটি মেরামতের ফলে বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দাড়িয়েছে তিনশত সাত জনে। তিনি বলেন, প্রতিদিন স্কুলে যাবার সময় রাসÍা নির্মান সামগ্রী দেখেছি ভালোমানের। দীর্ঘ দিন এ রাস্তাটি সচল থাকবে বলে আশা করেন তিনি। তনিি আরো জানান, প্রতিদিন দুইবার করে এ রাস্তা দিয়ে আমাকে চলাচল করতে হয়। খোয়ার কাজের পুরুত্ব তিন ইঞ্চি থাকলেও পরঅক্ষা কালীন সময়ে সেটা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানা চার ইঞ্চি করেছে এত রাস্তার আয়ুষ্কাল বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছে এ চার উপজেলার মানুষ।
চলন বিলের কৃষক জাহাঙ্গীর প্রামানিক বলেন, চলনবিলে ধান,পাট,গম ছাড়াও পেয়াজ-রশুন আবাদ করে বাজার জাত না করতে পেরে বাড়ীর উপর থেকে কম দামে বিক্রি করতে হতো। রাস্তাটি মেরামতের ফলে এ এলাকার কৃষকেরা স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলেছে। কাজটি করার সময় এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তি তদারকি করেছে কাজের মানে আমরা সন্তুষ্ট প্রকাশ করছি। একই কথা বলেছে বেশ কয়েকজন অটো চালক। তারা বলেন রাস্তাটি মেরামতের কারনে বহু দূর্ঘটনা কমে যাবে। রাস্তাটি ভাঙ্গা থাকায় প্রায়ই দূর্ঘটনা ঘটে প্রানহানী ঘটতো। এখন তার উন্নতি ঘটেছে।
হাদল গ্রামের অটো রিক্সা চালক রাকিবুল ইসলাম,জাহিদুল ইসলাম সহ এলাকাবাসী বলেন, বর্তমানে যথেষ্ট ভালোভাবে আমরা চলাচল করতে পারছি। কাজটি করার সময় এলাকাবাসী তদারকি করে ভালো কাজের নমুনা দেখার পরেও, একশ্রেনীর দুর্নীতিবাজ লোক এমনকি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের ফেসবুক প্রকৌশলী হিসেবে খ্যাত দূর্নীতিবাজ বিভিন্ন অপপ্রচার করছে। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন কাজের পিডি হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করে দূর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। বর্তমানে তাকে সে সকল কাজ থেকে বিরত রাখার কারনে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দক্ষিনা না পেয়ে বর্তমান সরকারের ভালো কাজেরও বিরোধীতা করছে বলে দাবী করেন হাটগ্রাম,ভেড়ামারা সহ সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকটি গ্রামের গ্রামবাসী।
পাবনা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ভেড়ামারা ধানুয়াঘাটা রাস্তাটি দীর্ঘদিন জীর্নশীর্ন অবস্থায় ছিল।অধিদফতর রাস্তাটি বিশ্বব্যাংকেরসহায়তায় আরটিএ প্রকল্পে অর্ন্তভুক্ত করা ছিল। কিন্তু প্রকল্পটি বাস্তবায়ন না হওয়ায় রাস্তাটি মেরামত করা সম্ভব হয়নি। ফলে জনদূর্ভোগের সৃষ্টি হয়। চারটি উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা রক্ষা ও ওই এলাকার পন্যসহ সার্বিক যোগাযোগ উন্নয়নের জন্য সরকারী নিজস্ব তহবিলে রাসÍাটির সাড়ে তিন কিলোমিটার সংস্কারের ব্যবস্থা গ্রহন করে। ফলে যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মেসার্স সৈকত এন্টারপ্রাইজ কাজটি বাস্তবায়ন করার কার্যাদেশ দেয়া হয়। এরই মধ্যে ডাব্লিউবিএ ওয়েরলের কাজ শেষ হয়েছে। এতে জনগনের চলাচল সহজতর হয়েছে। বাকী কাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করা হবে বলে আশা করেন তিনি।
