ঢাকা, বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২০, ৩১ আষাঢ়, ১৪২৭
গোপালগঞ্জ এলজিইডি মুক্ত, ঠিকাদারেরা স্বাধীন

গোপালগঞ্জে সেই উৎকোচ আদায়কারী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর বদলির আদেশ

গত ২মার্চ ২০২০ ইং তারিখে প্রধান প্রকৌশলীর স্বাক্ষরীত এক অফিস আদেশে গোপালগঞ্জ এলজিইডি এর নির্বাহী প্রকৌশলী এ,কে ফজলুল হক কে সদর দপ্তরে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে ও বাগেরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী মজিবুর রহমানকে গোপালগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী পদে পদায়ন করেছেন। এই বদলির আদেশ নিয়ে গোপালগঞ্জে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

গোপালগঞ্জ এলজিইডিতে কর্মরত সকল শ্রেণীর ঠিকাদারেরা বদলির আদেশকে স্বাগত জানিয়ে নিজেদের স্বাধীন বলে মনে করছেন। এলজিইডি দপ্তরের একটি সূত্র জানিয়েছে নির্বাহী প্রকৌশলী এ.কে ফজলুল হক বদলির এ আদেশ বাতিলের জন্য উদ্ধতন মহলে তৎবির চালিয়ে যাচ্ছে।

জানাযায় গোপালগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী এ কে ফজলুল হক দির্ঘদিন একই ষ্টেশনে অবস্থান করে বেপরোয়া হয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালচনার জন্ম দিয়েছিল।

ঠিকাদারদের বাধ্যকরেছিল ২.৫%ঘুষ তার দপ্তরে দিতে, ঘুষের সংক্ষিপ্ত নাম দিয়েছিল (পিসি) আদায় করাতেন নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরের হিসাব রক্ষক জগলুল এর মাধ্যমে। এই পিসি যে ঠিকাদার সঠিক ভাবে জমা না দিতেন কাজের বিল নিয়ে ব্যাপক ঝামেলায় পড়ে মানুষিক ও শারিরিক ভাবে নাজেহাল হতে হত। এ নিয়ে ঠিকাদারদের মধ্যে ব্যপক ক্ষোভের সৃষ্টি হলেও গোপালগঞ্জ জেলার সম্মানের দিকে তাকিয়ে নিরবেই সব অনিয়ম সয়ে গেছেন। বর্তমানে গোপালগঞ্জ এজিইডি মুক্ত, আমরা ঠিকাদারেরা স্বাধীন গতকাল শনিবার নবচেতনাকে এমনটাই জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রায় ২৫জন ঠিকাদার। তারা আরো বলেছেন এজিইডির প্রতিটা উপজেলা দপ্তরে এ কে ফজলুল হকের ধার্যকরা ২.৫% উৎকোচ আদায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা ছিল, সদরের দায়িত্ব পালন করতেন উপ-সহকারী প্রকৌশলী মঞ্জুর রহমান। কোটালীপাড়ায় উপ-সহকারী প্রকৌশলী দেবাশীষ বাঁকচী। এলজিইডি দপ্তরের গোপনীয় একটি সূত্র জানিয়েছে ক্ষমতাধর এই নির্বাহী প্রকৌশলী এ কে ফজলুল হক ঠিকাদারদের কাছথেকে উৎকোচ ছাড়াও বিভিন্ন ভাবে সরকারী অর্থ লুটে নিয়েছেন, কিনেছেন বিভিন্ন জেলায় নামে-বেনামে সম্পদ, নিজ নামে ও পরিবারের বিভিন্ন সদস্যদের ব্যাংক হিসাবে রয়েছে প্রচুর অর্থ। শুধু গোপালগঞ্জ সার্কিট হাউজের সামনেই মোঃ মোশারফ হোসেন হাওলাদার(মোশারফ) নামের এক আত্মীয়র নামে আর,এস ও এস,এ ৯৬ নং বি,আর,এস ১১৭নং তেঘরিয়া মৌজায় আর,এস ২৯৯নং এস,এ৩৯২নং ও বি, আর,এস১২৮৩ নং প্রস্তাবিত খতিআনে ৩৪২,৩৪৩ ও ৩৪৪ নং দাগে২১.৫০ শতাংশ ভ’মি ৫৩৬৮/১৮ নম্বর দলিল মূলে ক্রয় করেছে যার প্রকৃত বাজার মূল্য আনুমানিক দেড় কোটি টাকা হলেও দলিলে মাত্র ৭০লক্ষ টাকা মূল্য দেখানো হয়েছে, এতে করে বাংলাদেশ সরকার প্রকৃত রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এছাড়াও গত বছর ক্ষমতাধর এই নির্বাহী প্রকৌশলী মুকসুদপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপেক্স ভবন নির্মান কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুর‌্যাল না করেই বরাদ্দকৃত টাকা আত্মসাত করার চেষ্টা করেছিল। দৈনিক নবচেতনা পত্রিকায় অর্থ আত্মসাৎ এর পায়তারা শিরোনামে সংবাদও প্রকাশিত হয়েছিল। এছাড়াও কোটালীপাড়ায় ২০১৮ ৫ টি মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের নামে বরাদ্ধকৃত ঘরের টাকা কাজ না করেই আত্মসাৎ করার চেষ্টা করলে স্থানীয় দৈনিক যুগের সাথী প্রতিকায় সংবাদ প্রকাশ ও বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকদের হস্তক্ষেপে ঘর তৈরি করতে বাধ্য হন ।