কুষ্টিয়া প্রতিনিধি আলামিন
কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় অসময়ে বা গ্রীষ্মকালে আগাম জাতের বাঁধাকপি চাষ করে ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছেন স্থানীয় কৃষক মোঃ সেন্টু গার্ড। প্রতিকূল আবহাওয়া কাটিয়ে গ্রীষ্মকালীন বাঁধাকপি চাষে তিনি আশার আলো দেখায় এলাকায় অন্যান্য চাষিদের মাঝেও আগ্রহ ও ব্যাপক সাড়া জেগেছে।উপজেলার খাঁড়ারা ব্লকের নওদা খাঁড়ারা গ্রামের পরিশ্রমী চাষি মোঃ সেন্টু গার্ড চলতি গ্রীষ্ম মৌসুমে তাঁর ৫ বিঘা জমিতে উচ্চফলনশীল গ্রীন ডায়মন্ড প্লাস’ জাতের বাঁধাকপি চাষ করেন। জমি প্রস্তুত, প্রফেশনাল শেড/ছায়া প্রদান, সুষম সার, সেচ ও নিবিড় পরিচর্যা বাবদ তাঁর মোট খরচ হয়েছে ২,৫০,০০০ (আড়াই লাখ) টাকা।
নিয়মিত যত্ন ও সঠিক নির্দেশনায় জমিতে কপির বাম্পার ফলন হয়েছে। গ্রীষ্মকালে বাজারে কপির চাহিদা ও বাজারদর চড়া থাকায় সম্পূর্ণ জমির বাঁধাকপি বিক্রি করে তাঁর আনুমানিক ৫,০০,০০০ (পাঁচ লাখ) টাকা আয় হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন এই কৃষক। খরচ বাদ দিয়ে তাঁর প্রায় আড়াই লাখ টাকার নিট লাভ থাকবে।সাফল্যের অনুভূতি প্রকাশ করে কৃষক সেন্টু গার্ড জানান, গ্রীষ্মকালে বাঁধাকপি চাষ করা কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ হলেও পরিশ্রম আর সঠিক পরিচর্যা করলে ভালো লাভ পাওয়া যায়। আগাম বাঁধাকপি বাজারে আসার কারণে ভালো দাম পাচ্ছি। আমার এই সফলতা দেখে এলাকার অনেক কৃষকই এখন গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষে উৎসাহিত হচ্ছেন।
এ বিষয়ে খাঁড়ারা ব্লকের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি অফিসার মোঃ ময়নুল ইসলাম জানান, কৃষক সেন্টু গার্ড গ্রীষ্মকালীন ‘গ্রীন ডায়মন্ড প্লাস’ জাতের বাঁধাকপি চাষ করে অসাধারণ সফলতা পেয়েছেন। আমরা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে শুরু থেকেই তাঁকে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দিয়ে আসছি। অসময়ে আধুনিক প্রযুক্তিতে উচ্চমূল্যের ফসল চাষে তিনি এলাকায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, শীতকালের চেয়ে গ্রীষ্মকালে কপির ভালো দাম পাওয়া যায়। সেন্টু গার্ডের এমন লাভজনক চাষাবাদ দেখে খাঁড়ারা ব্লকের আরও অনেক চাষি আগামীতে অগ্রিম জাতের গ্রীষ্মকালীন বাঁধাকপি চাষের উদ্যোগ নিচ্ছেন।
