ePaper

ওয়াশিংটনে শি জিনপিংকে বিরল অভ্যর্থনা জানালেন ট্রাম্প

ওয়াশিংটন, ২৪ সেপ্টেম্বর : যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাওয়া চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে বিরল কূটনৈতিক সৌজন্য দেখিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রচলিত রীতি ভেঙে তিনি সরাসরি সামরিক বিমানঘাঁটিতে গিয়ে চীনা প্রেসিডেন্টকে অভ্যর্থনা জানান।

স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যায় শি জিনপিংয়ের বহনকারী বিমান ওয়াশিংটনের কাছে মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত ‘জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজ’ সামরিক বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করলে ট্রাম্প সেখানে উপস্থিত হয়ে তাকে স্বাগত জানান। বিমান থেকে নামার পর শি জিনপিংকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

সাধারণত বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের হোয়াইট হাউসে স্বাগত জানান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টরা। সে বিবেচনায় ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে ব্যতিক্রমী কূটনৈতিক সৌজন্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

হোয়াইট হাউস সূত্র জানায়, চলতি বছরের গ্রীষ্মে চীন সফরের সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বিশেষ আতিথেয়তা দিয়েছিলেন শি জিনপিং। ওয়াশিংটনে চীনা প্রেসিডেন্টকে বিমানঘাঁটিতে গিয়ে অভ্যর্থনা জানানোর মধ্য দিয়ে সেই সৌজন্যের প্রতিদান দেওয়া হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের কল্যাণে সহায়ক যেকোনো চুক্তি ও সহযোগিতার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিশ্বনেতাদের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী।

ইতিহাসে মার্কিন প্রেসিডেন্টদের বিমানবন্দরে গিয়ে বিদেশি নেতাদের অভ্যর্থনা জানানোর ঘটনা খুবই বিরল। ১৯৬২ সালে প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি কয়েকজন বিদেশি নেতাকে ওয়াশিংটনের বিমানবন্দরে স্বাগত জানিয়েছিলেন। তবে সাম্প্রতিক দশকগুলোতে এ ধরনের ঘটনা মূলত পোপদের সফরের ক্ষেত্রেই দেখা গেছে।

২০০৮ সালে প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ পোপ ষোড়শ বেনেডিক্টকে এবং ২০১৫ সালে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা পোপ ফ্রান্সিসকে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে অভ্যর্থনা জানিয়েছিলেন।

ট্রাম্পের এ পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও পারস্পরিক সম্পর্কের গুরুত্বের প্রতীক হিসেবেও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।