শফিউল আলম দুলাল , পাবনা:
মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে কঠোর, ধারাবাহিক ও পরিকল্পিত অভিযানের মাধ্যমে পাবনায় আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন জেলা পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ। দায়িত্ব গ্রহণের পর মাত্র দুই মাসের মধ্যে জেলার বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত বিশেষ অভিযানে প্রায় ১,৪০০ মাদকসেবী ও মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ফলে পাবনায় ভেঙে পড়েছে মাদকের সিন্ডিকেট।
জেলার বিভিন্ন স্থানে একযোগে পরিচালিত অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি এবং থানা পুলিশের সমন্বিত তৎপরতায় দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় একাধিক মাদকচক্রের কার্যক্রম ভেঙে পড়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। একসময় যেসব এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচার অভিযোগ ছিল, সেখানে এখন পরিস্থিতির দৃশ্যমান পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অভিযানের ধারাবাহিকতায় জেলার মাদক কারবারিদের মধ্যে অস্বস্তি ও আতঙ্ক বিরাজ করছে বলেও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
পাবনার সচেতন মহলের অনেকের মূল্যায়নে, জেলার দীর্ঘ প্রায় ২০০ বছরের ইতিহাসে মাদকের বিরুদ্ধে এত ব্যাপক, সমন্বিত ও ধারাবাহিক অভিযান একটি বিরল ঘটনা। তাদের মতে, জেলা পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহর নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে মাদক সিন্ডিকেটের শক্ত ভিত নড়ে গেছে এবং অপরাধচক্রের সদস্যরা এখন অনেকটাই কোণঠাসা।
সচেতন নাগরিকরা বলছেন, মাদকের ভয়াল থাবা থেকে সন্তানদের রক্ষা করতে বছরের পর বছর অসংখ্য পরিবার নীরবে সংগ্রাম করে এসেছে। অনেক অভিভাবক রাতের পর রাত উদ্বেগে কাটিয়েছেন, সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় থেকেছেন। সেই বাস্তবতায় জেলা পুলিশের সাম্প্রতিক কঠোর অভিযান সাধারণ মানুষের মনে নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছে। তাদের বিশ্বাস, এ অভিযান অব্যাহত থাকলে পাবনাকে একটি মাদকমুক্ত ও নিরাপদ জেলায় পরিণত করা সম্ভব হবে।
আইনশৃঙ্খলা বিশ্লেষকদের মতে, মাদক নির্মূলে শুধু গ্রেপ্তার নয়, মাদক সরবরাহ চক্র, অর্থায়নের উৎস এবং নেপথ্যের মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে পাবনা জেলা পুলিশের চলমান অভিযান একটি ইতিবাচক ও কার্যকর উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী মহলের অভিমত, মাদক সমাজের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। তাই মাদকের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহর আপসহীন অবস্থান সময়োপযোগী, সাহসী ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট উদ্যোগ হিসেবে প্রশংসিত হচ্ছে।
পাবনার সর্বস্তরের মানুষের প্রত্যাশা, এই অভিযান একই গতিতে অব্যাহত থাকবে। মাদকমুক্ত, নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পাবনা গড়ে তুলতে পুলিশ প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, অভিভাবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণই হতে পারে আগামী দিনের সবচেয়ে বড় শক্তি।
