হামিদুল্লাহ সরকার
নীলফামারীতে সোনালী আঁশ পাটের বাম্পার ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গত কয়েক বছর থেকে সোনালী আঁশ পাটের ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় এবারও ভালো ফলনের আশায় পাটে ক্ষেতে কৃষকরা দিনরাত পরিশ্রম করছেন।
নীলফামারী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে নীলফামারীতে ৫ হাজার ২১০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ করেছেন কৃষকরা। যার উৎপাদন লক্ষ?্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ হাজার ৮৭৫ মেট্রিক টন।
এর মধ্যে নীলফামারী সদর উপজেলায় পাট চাষ হয়েছে ২ হাজার ১৮০ হেক্টর জমিতে, সৈয়দপুর উপজেলায় পাট চাষ করা হয়েছে ৮০ হেক্টর জমিতে, ডোমার উপজেলায় পাট চাষ করা হয়েছে ৯৫০ হেক্টর জমিতে, ডিমলা উপজেলায় পাট চাষ করা হয়েছে ৬৬৫ হেক্টর জমিতে, জলঢাকা উপজেলার পাট চাষ করা হয়েছে ১ হাজার ৩৫ হেক্টর জমিতে ও কিশোরগঞ্জ উপজেলার পাট চাষ করা হয়েছে ৩০০ হেক্টর জমিতে।
যা বিগত বছরে জেলায় ৫ হাজার ২২০ হেক্টর জমিতে সোনালী আঁশ পাট চাষ করেছিল কৃষকরা যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১২ হাজার ৮৮৫ মেট্রিক টন।
সরেজমিনে জেলার ৬টি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, সোনালী আঁশ পাটের বাম্পার ফলনের আশায় কৃষকরা দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। চলতি পাট মৌসুমে এ পর্যন্ত তেমন কোন রোগ বালাই দেখা দেয়নি। জমিতে সময় মতো নিড়ানী ও কীটনাশক দেওয়ায় পাট গাছগুলো সবুজ হয়েছে। এবার প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগ না হলে সোনালী আঁশ পাটের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।
কৃষকরা বলছেন,কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা প্রতিনিয়ত তদারকি ও পাট উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয়, পাট অধিদপ্তর নীলফামারীর মাধ্যমে প্রশিক্ষণ ও বীজ পাওয়ায় আরও বেশি পাট চাষে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন তারা।
নীলফামারী সদর উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের কৃষক বাবুল হোসেন বলেন, প্রতিবারের ন?্যায় এবারেও ২ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। এবার রোগ বালাই তেমন নেই, আশা করছি ভালো ফলন পাবো।
জেলা পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা এ.টি.এম তৈবুর রহমান বলেন, এ মৌসুমে “ উন্নত প্রযুক্তি নির্ভর পাট ও পাটবীজ উৎপাদন এবং সম্প্রসারণ প্রকল্প” এর আওতায় জেলায় ১৭ হাজার ৮৫০ জন কৃষকের মাঝে ২৬ হাজার ১২৫ কেজি পাট বীজ বিতরণ করা হয়। এছাড়া দুভাগে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। ১৮০ জন কৃষকে আঁশ পাটের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে এবং ৪৫০ জন কৃষকে বীজ পাটের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।
প্রশিক্ষণ শেষে তাদের প্রত?্যকেকে একটি করে কলম, ব?্যাগ,খাতা ও সকালের নাস্তা এবং দুপুরের খাবারসহ ৫০০ টাকা সম্মানি দেয়া হয়েছে।
নীলফামারী সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ আতিক আহমেদ বলেন, সদর উপজেলায় ভুট্টার সাথে সাথী ফসল হিসেবে পাটের চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়াও বাজারে পাটের দাম বেশি থাকায় কৃষকরা পাট চাষে আগ্রহী হচ্ছে। কৃষি প্রণোদনার আওতায় পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃক আবিষ্কৃত উচ্চ ফলনশীল নতুন জাত এর বীজ প্রাপ্তির কারণেও পাটের আবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
নীলফামারী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের
উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ মনজুর রহমান বলেন, জেলার যেসব এলাকায় পানির সুবিধা আছে সে সকল এলাকায় কৃষকদের পাট চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। তবে পাট চাষে আরো উন্নত গবেষণা দরকার। জমির স্বাস্থ্যের জন্য পাট চাষাবাদ খুব ভালো।
