আল আমিন খান,বাগেরহাট
বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হযরত খানজাহান আলী (রা:) এর মাজার সংলগ্ন দীঘিতে থাকা কুমিরটিকে (৩জুন) সকালে বন বিভাগের খুলনার সংরক্ষণাগারে অপসারণ করা হয়েছে।সকালে বন বিভাগের খুলনার সংরক্ষণাগারে বিশেষজ্ঞদের একটি দল এসে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বন বিভাগ জেলা পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় কুমিরটি ধরে স্থানান্তর এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয় নির্ধারণ করেন।
এর আগে মাজারে আগত দেশি-বিদেশি দর্শনার্থী ও ভক্তদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে মঙ্গলবার রাত ১০টায় অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় অপসারণের এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।বাগেরহাট জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন। সভা শেষে তিনি জানান, মাজারে আগত দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আপাতত দীঘিতে থাকা কুমিরটিকে অপসারণ করা হবে । পাশাপাশি মাজার এলাকায় পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, মাজারের দীঘি থেকে কুমিরটি সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সকালে খুলনা থেকে বিশেষজ্ঞদের একটি দল এসেছে। তারা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে কুমিরটি ধরে স্থানান্তর এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয় নির্ধারণ করবেন।
উল্লেখ্য, সোমবার রাত সারে ৮টার দিকে মাজারের দীঘিতে গোসল করতে নেমে ৭ বছর বয়সী শিশু ফাতেমা আক্তার কুমিরের আক্রমণের শিকার হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কুমিরটি শিশুটির পা ধরে পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়। পরে মঙ্গলবার ভোরে মাজার সংলগ্ন দীঘির মহিলা ঘাট এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ মর্মান্তিক ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।
