ePaper

সরাইলে ঊর্ধ্বমুখী সবজির দাম, কেজিতে বেড়েছে ১৫-২০ টাকা

মো. তাসলিম উদ্দিন সরাইল(ব্রাহ্মণবাড়িয়া)

বৃষ্টির অজুহাতে বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় সরাইল উপজেলা  বিভিন্ন বাজারে সবজির দাম ঊর্ধ্বমুখী। এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত।সরেজমিনে বাজার ঘুরে দেখা যায়, বেগুন, পটল, কচুর লতি ও লাল শাক। এসব সবজি এখন কেজিপ্রতি ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি মিষ্টি কুমড়া, লাউ, ঢ্যাঁড়স, কাঁচা কলা ও পুঁইশাক বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজিতে।অথচ সাত দিন আগেও এসব সবজির দাম ছিল ২০ টাকার মধ্যে। একই সঙ্গে আদা, রসুন ও কাঁচা মরিচের দামও বেড়েছে। তবে আলু ও পেঁয়াজের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে সরবরাহ কমেছে, যার প্রভাব পড়েছে দামে।এছাড়া জ্বালানি সংকটে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সবজি পরিবহনেও ভোগান্তি তৈরি হয়েছে বলেও জানান তারা। আড়ত ব্যবসায়ীরা বলেন, গত সপ্তাহের তুলনায় চলতি সপ্তাহে সবজির দাম কিছুটা বেড়েছে। সরবরাহ বাড়লে দাম আবার কমে আসবে বলে আশা করা যায়।আরেক ব্যবসায়ী শাকিব বলেন, নরসিংদী  জেলার সবজি দেশের বড় বড় মোকামগুলোতে যায়। কিন্তু বর্তমানে মাঠে সবজি উৎপাদন কম এবং পরিবহন জটিলতার কারণে ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন। এ বিষয়ে প্রশাসনের নজর দেয়া উচিত। কৃষক ইসমাইল বলেন, তীব্র রোদের ও অতিবৃষ্টি  কারণে মাঠে ফসল নষ্ট হচ্ছে। এছাড়া ডিজেল সংকটে পর্যাপ্ত সেচ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। দাম কিছুটা বেশি মিললেও কৃষকরা উৎপাদন খরচ তুলতে পারছে না।সবজি কিনতে এসে মফিজ বলেন, বর্তমানে সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে। আবার বলে বৃষ্টি, এভাবে একটা না একটা অজুহাত তারা দেখায়।তবে এসব বাজারে কেউ যাতে অতিরিক্ত মুনাফা না করতে পারে সে বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি প্রয়োজন। সপ্তাহ ব্যবধানে অস্থির সরাইলে ডিমের বাজার। সপ্তাহ ব্যবধানে ডজনে ১০ টাকা বেড়ে লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায় এবং সাদা ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়। বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ সংকটের কারণেই দাম বেড়েছে।ডিম বিক্রেতা আমিন বলেন, বাজারে ডিমের সরবরাহ কমে গেছে। সেই কারণে পাইকারিতেই দাম বাড়তি রয়েছে। আমরা বাধ্য হয়েই খুচরায় বেশি দামে বিক্রি করছি।মুরগির বাজারে অবশ্য  মুরগির দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও বেড়েছে অন্যান্য জাতের মুরগি। বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায়, দেশি মুরগি কেজিতে ৪০ টাকা বেড়ে ৭৮০ টাকায়, সোনালি মুরগি ৩৫০ টাকায় এবং লেয়ার মুরগি ২০ টাকা বেড়ে ৩৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সচেতন মহল মনে করেন বাজার মনিটরিং মাধ্যমে প্রশাসন বাজার নিয়ন্ত্রণ করা দরকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *