ePaper

বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফের ৫৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালিত

Exif_JPEG_420

মোঃ সহিদুল ইসলাম, মধুখালী প্রতিনিধি

ফরিদপুর  জেলার মধুখালী উপজেলার কামারখালী  ইউনিয়নের  সালামতপুর  বর্তমান  রউফনগর  গ্রামের কৃতি সন্তান বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফের ৫৫ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী সোমবার  আসর নামাজ বাদ মধুখালী উপজেলা প্রশাসন ও কামারখালী ইউনিয়ন পরিষদের আয়োজনে  বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ গ্রন্থাগার ও স্মৃ§ৃতি জাদুঘরে পালিত হয়েছে । জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্যে দিয়ে দিবসটির সূচনা করা হয়। এ উপলক্ষে এক আলোচনা সভা কামারখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ রাকিব হোসেন চৌধুরী ইরান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রওশনা জাহান । এ ছাড়া আরো বক্তব্য রাখেন কামারখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ রাকিব হোসেন চৌধুরী ইরান, কামারখালী ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি প্রার্থী ও সাবেক সভাপতি মোঃ আক্কাচ আলী মৃধা, যাদুঘরের দাতা সদস্য বীরমুক্তিযোদ্ধা  আবু বক্কার মোল্যা, বীরমুক্তিযোদ্ধা মোঃ শাহাদত হোসেন সাবু  প্রমুখ। এ ছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ  এর বড় বোন জোহরা বেগম সহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ প্রমুখ। আলোচনা শেষে যাদুঘর সহ স্থানীয় মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া পরিচালনা করেন হাফেজ মোঃ কাইউম হোসেন । পরে উপস্থিত সকলের মধ্যে তবারক বিতরণ করা হয়। উল্লেখ্য মুন্সি আব্দুর রউফের জন্ম ১৯৪৩ সালের ৮ মে ফরিদপুরের বোয়ালমারী থানার সালামতপুর গ্রামে বর্তমান মধুখালী উপজেলার কামারখালী ইউনিয়নের সালামতপুর(বর্তমান রউফনগর) গ্রামে। ১৯৬৩ সালের ৮ মে ২০ বছর বয়সে তিনি যোগ দেন ইপিআরে। প্রশিক্ষণ শেষে নিয়োগ পান পূর্ব পাকিস্তানের সীমান্ত রক্ষার দায়িত্বে। মহান মুক্তিযুদ্ধ যখন শুরু হয় তখন তিনি কর্মরত ছিলেন ইপিআরের ১১ নম্বর উইং চট্টগ্রামে। যুদ্ধের প্রথমভাগেই চট্টগ্রাম ইপিআরের বাঙ্গালী সদস্যরা রুখে দাঁড়ান, তারা বিদ্রোহ ঘোষণা করেন পাকিস্তানি আর্মির বিরুদ্ধে। ক্যাপ্টেন খালেকুজ্জামানের নেতৃত্বে অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দেন আব্দুর রউফ। তিনি এ রেজিমেন্টের প্রথম এলএমজি চালক। সহযোদ্ধাদের পিছু হটার সুযোগ করে দিয়ে নিজে বাঙ্কারে দাঁড়িয়ে অনবরত গুলি করতে থাকেন আব্দুর রউফ। পাক বাহিনীর সাতটি স্পিডবোট তিনি একাই ডুবিয়ে দেন। দুটি লঞ্চ নিয়ে পিছু হটতে বাধ্য হয় পাক সেনারা। পরে পাকিস্তানি বাহিনী লঞ্চ থেকে মর্টারের গোলাবর্ষণ শুরু করে। হঠাৎ একটি মর্টারের গোলা তার বাঙ্কারে এসে পড়ে। শহিদ হন আব্দুর রউফ। সেদিন তার বিচক্ষণতায় ১৫০ জন মুক্তিযোদ্ধা প্রাণে বেঁচে যান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *