নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানাধীন আলীগঞ্জ এলাকায় গৃহবধূ সাবিনা বেগম ওরফে চম্পা (২২) হত্যার ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের স্বামী মো. হামিদুল ইসলাম রনি (২৭)কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) বিকেল ৫টায় এই তথ্য নিশ্চিত করেন পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ।
পিবিআই জানায়, গত বুধবার (১৮ মার্চ) সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে আলীগঞ্জ পূর্বপাড়া রেললাইন সংলগ্ন একটি টিনশেড বাড়ির পাশে পরিত্যক্ত কক্ষ থেকে সাবিনা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
খবর পেয়ে পিবিআইয়ের ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং তদন্ত শুরু করে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই রুবেল কাজী বাদী হয়ে ফতুল্লা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে আলীগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে আত্মগোপনের চেষ্টা করার সময় নিহতের স্বামী রনিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ বলেন, পরকীয়ার সন্দেহকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই বিরোধ লেগে থাকত। ঘটনার দিন রাতে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে রনি ক্ষুব্ধ হয়ে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে মরদেহ বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত কক্ষে ফেলে রাখেন।
তিনি আরও বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যেই ঘটনার রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

