মো. তাসলিম উদ্দিন সরাইল(ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অধ্যুষিত এলাকা সরাইল- আশুগঞ্জ । দেশে যেকটি স্বচ্ছ নির্বাচন হয়েছে তার সবগুলোতে দাপটের সঙ্গে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি বা জোটের প্রার্থীরা। বিরোধীরা কোনো নির্বাচনেই বিএনপিকে এই জেলার কোনো আসনেই চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেনি। তবে এবার ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগ না থাকায় পাল্টে গেছে এই আসনের ভোটের অবস্থা। অন্যান্য রাজনৈতিক দলের চেয়ে বিএনপি অবস্থান ক্রমশ শক্তিশালীতে পরিণত হয়েছে। তবে গত ২০২৪ এর ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের প্রহসনমূলক নির্বাচনে ভোট প্র্রয়োগ বঞ্চিত মানুষের মনে বিএনপির প্রতি ক্রমশ আস্থা তৈরি হওয়ায় এ আসন বিএনপি এখন অনেক শক্তিশালী ও জনপ্রিয় দলে পরিণত হয়েছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শক্তিশালী বিএনপি সমর্থিত জোটের সাথে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছে জামায়াত জোট, বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। বিএনপিকে ঠেকাতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা আওয়ামী লীগের ভোটারদের উপর বিজয়ের প্রত্যাশা করছে। এখন পর্যন্ত ভোটের মাঠের সর্বশেষ পরিস্থিতি অনুযায়ী বিএনপি জোট সমর্থিত প্রার্থী’র সাথে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত স্বতন্ত্র প্রার্থীদের। এখানে কঠিন হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। সেই লক্ষে প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারনা সর্বত্র সরগরম। নির্বাচনী হাওয়া বইছে সর্বত্র। হাটে বাজারে চলছে নির্বাচনী উচ্ছ্বাস।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া -২ : সরাইল- আশুগঞ্জ উপজেলা ও বিজয়নগরে দইটি ইউনিয়ন নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া -২ আসনটি গঠিত। এখানকার মোট ভোটার-৪ লাখ ৯২ হাজার ৭৯৭। বর্তমানে পুরুষ ২ লাখ ৬১ হাজার ৩৯ জন, মহিলা ২ লাখ ৩১ হাজার ৭৫৬ জন ও হিজড়া ২ জন।সরাইল উপজেলায় ৯টি ইউনিয়নে মোট ভোটার ২ লাখ ৮৫ হাজার ১৭৬। আশুগঞ্জ উপজেলায় ৮টি ইউনিয়নে মোট ভোটার ১ লাখ ৫০ হাজার ৬৯৪ জন। এছাড়া বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা ও বুধন্তী ইউনিয়নের মোট ভোটার সংখ্যা ৫৬ হাজার ৯২৭।ভোট- কেন্দ্র – ১-শত-৫১ টি রয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ সংসদীয় আসনে রাজনৈতিক উত্তাপ এখন তুঙ্গে। সর্বত্র বইছে ভোটের হাওয়া। তবে এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছে আওয়ামী লীগের ‘নীরব’ ভোটব্যাংক।
দলটির সাংগঠনিক দুর্বলতা ও মাঠপর্যায়ে অনুপস্থিতির কারণে প্রায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ আওয়ামী সমর্থক ভোটার এখনো সিদ্ধান্তহীন। এই বিশাল ভোটব্যাংক যে প্রার্থীর দিকে ঝুঁকবে, তার বিজয় অনেকটাই নিশ্চিত—এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।ব্যক্তিগত গণসংযোগে জোর প্রার্থীরা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উঠান বৈঠক, পথসভা ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন পোস্টার- মাইকিংয়ের পাশাপাশি এবার গুরুত্ব পাচ্ছে ব্যক্তিগত যোগাযোগ। বিশেষ করে আওয়ামী সমর্থক পরিবারগুলোর সঙ্গে সরাসরি কথা বলে উন্নয়ন ও নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে।সংখ্যালঘু ভোটারদের টানতেও প্রার্থীরা কৌশলী ভূমিকা পালন করছে। অনেক ভোটার উন্নয়নের পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ ও চাঁদাবাজিমুক্ত পরিবেশ প্রত্যাশা করছেন।সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া -২ আসন। এখানে বিএনপি জোট প্রার্থী মাও. জুনায়েদ আল হাবিব ও স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানার মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। পালটাপালটি সভা-মিছিল ও প্রচারণায় মুখর পুরো এলাকা। এর এর মধ্যে নির্বাচনী মাঠে নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন, আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী এসএন তরুণ দে। এই আসনে যিনি আওয়ামী ভোটারদের আস্থা অর্জন করতে পারবেন, তিনিই এগিয়ে থাকবেন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন যারা।
মাও. জুনায়েদ আল হাবিবসহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে এখন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন ৯ জন প্রার্থী। তাঁরা হলেন,আশরাফ উদ্দিন মাহদী শাপলা কুলি- জাতীয় নাগরিক পার্টি। এড. জিয়াউল হক মৃধা- জাতীয় পার্টি লাঙ্গল ।এস এন তরুণ দে, স্বতন্ত্র। তৈমুর রেজা মো. শাহজাদা – জাতীয় সমাজ তান্ত্রিক দল (জেএসডি)। নেছার আহমদ হাতপাখা- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।। মো. মইন উদ্দিন – ইনসানিয়াত বিপ্লব, বাংলাদেশ। রুমিন ফারহানা – স্বতন্ত্র। শরিফা আক্তার – আমজনতার দল। ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২ আসনে জুনায়েদের খেজুর গাছ’ রুমিন হাঁস তরুণ দে লড়বেন কলা প্রতীকে।
প্রার্থীরা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান, গ্যাসের প্রচারণার
প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকার ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে—কয়েকটি ইউনিয়নে বিএনপি জোট এগিয়ে কিছু কয়েকটি ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অবস্থান শক্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া -২ আসনে ফল নির্ভর করছে আওয়ামী ভোটারদের ওপর। এবারের নির্বাচন কেবল ভোটের লড়াই নয়, বরং রাজনৈতিক পরিবর্তনের বড় পরীক্ষা। শেষ পর্যন্ত নীরব আওয়ামী ভোটব্যাংক কার দিকে যায়, সেটিই নির্ধারণ করবে এ আসনের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক মানচিত্র।
