নবচেতনা প্রতিবেদক : ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলনের চতুর্থ দিনে নারায়ণগঞ্জের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরেছেন। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তবে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল থেকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের শিবু মার্কেট ও কাঠেরপুল এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করে। পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অবস্থান নেন বিএনপির নেতাকর্মীরাও।
এর আগে, গতকাল বুধবার সকালে শ্রমিকরা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড অবরোধের উদ্দেশ্যে শিবু মার্কেট ও কাঠেরপুল এলাকায় জড়ো হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় শ্রমিকরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ ঘটনায় কয়েকজন শ্রমিককে আটক করা হয়।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী বলেন, সকাল থেকেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। কোথাও যেন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, সেজন্য গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরেছেন।
এদিকে, জেলার শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক আন্দোলন ও সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা পয়েন্ট পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির। এ সময় তিনি শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনরত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান।
জেলা প্রশাসক শ্রমিকদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা, শিল্পাঞ্চলে শান্তি-শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেন। পাশাপাশি বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
নবচেতনা/এআর
