ফরিদপুর ব্যুরো : ফরিদপুরে ডিবির অভিযানে ৩ ডাকাত আটক ও ডাকাতির মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। জানা গেছে, ফরিদপুরে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে আন্তজেলা ডাকাতি, চুরি ও ছিনতাই চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে সেনাবাহিনী ও পুলিশের চাকরিচ্যুত দুই সদস্য রয়েছেন। গ্রেফতারদের হেফাজত থেকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ডাকাতির ঘটনায় লুট হওয়া একটি ইয়ামাহা ১৫০ সিসি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় অন্তত ১৬টি মামলার তথ্য পেয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নতুন ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ভাড়া নেওয়ার কথা বলে ডিবি পুলিশের পরিচয় ব্যবহার করে জোরপূর্বক ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে অভিযান শুরু করে ডিবি পুলিশ। গত ৩ নভেম্বর রাত সাড়ে ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে পুলিশের চাকরিচ্যুত সদস্য মো. লিমন মিয়া (৩৪) ও তাঁর সহযোগী মো. সাখাওয়াত মুন্সি ওরফে সাকা (৩৬) গ্রেফতার হন। লিমনের বাড়ি গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার নান্দাহা গ্রামে এবং সাকার বাড়ি একই উপজেলার কান্দাপাড়া গ্রামে।জিজ্ঞাসাবাদে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই রাতে ফরিদপুর শহরের রঘুনন্দনপুর এলাকায় অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ। পরে আনুমানিক রাত ৩টার দিকে সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত সদস্য মো. ইমদাদুল হক ওরফে জাহাঙ্গীরকে (৫৫) গ্রেফতার করা হয়। তিনি খুলনার লবণচরা থানার বাসিন্দা। বর্তমানে রঘুনন্দনপুর এলাকায় মাজেদ মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।
অভিযানে জাহাঙ্গীরের বাসায় তল্লাশি চালিয়ে তাঁর হেফাজত থেকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ডাকাতির ঘটনায় লুট হওয়া একটি ইয়ামাহা ১৫০ সিসি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওই ডাকাতির ঘটনায় নগদ ২২ লাখ টাকাসহ প্রায় ৬৪ লাখ টাকার সম্পদ লুট হয়েছিল। উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলটি ওই লুট হওয়া সম্পদের অংশ।
পুলিশ জানায়, লিমন ও সাকার বিরুদ্ধে ইজিবাইক চুরি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে মামলা হয়েছে। অন্যদিকে, জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে চোরাই মালামাল নিজ হেফাজতে রাখার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। পুলিশের অপরাধ তথ্যভান্ডার (সিডিএমএস) যাচাই করে লিমনের বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাই, অস্ত্র ও মাদকসহ অন্তত ১১টি এবং জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক আইনের মামলাসহ অন্তত পাঁচটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।
পুলিশের দাবি, লিমন দীর্ঘদিন ধরে ডিবি পুলিশের পরিচয় ব্যবহারসহ বিভিন্ন কৌশলে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক চুরি ও ছিনতাই করে মুকসুদপুরের মন্টু মিয়া নামে এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করতেন। অন্যদিকে, জাহাঙ্গীরও বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতি ও মোটরসাইকেল চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গ্রেফতার লিমন ও সাকার সঙ্গে আন্তজেলা ডাকাত দলের সদস্য জুয়েল সানীর কারাগারে পরিচয় হয়েছিল। জুয়েল সানীর বাড়ি মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার চর সাটুরিয়া গ্রামে। বর্তমানে তিনি নাটোরে সংঘটিত একটি ডাকাতি মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। পুলিশের দাবি, লিমন ও সাকাকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য এবং তদন্তে উঠে আসা প্রাথমিক প্রমাণে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সংঘটিত ডাকাতির নেতৃত্বে জুয়েল সানীর থাকার বিষয়টি সামনে এসেছে। ওই ঘটনায় তাঁর সঙ্গে গ্রেফতার ব্যক্তিদের যোগাযোগ ও সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. শাহারিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী জানান, গ্রেফতার ব্যক্তিদের সঙ্গে বড় ধরনের অপরাধী নেটওয়ার্কের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তাঁদের আদালতে সোপর্দ করে অধিকতর তদন্ত, চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতার এবং চোরাই মালামাল উদ্ধারের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।
ফরিদপুরে ডিবির অভিযানে ৩ ডাকাত আটক, ডাকাতির মোটরসাইকেল উদ্ধার
