বালুবাহী ট্রাকের চাপে ধসে পড়া কংস নদীর স্টিল ব্রিজ: সরকারি জরুরি উদ্যোগের অপেক্ষায় এলাকাবাসী, দ্রুত সমাধানের দাবি 

ময়মনসিংহ জুয়েল মিয়া নাদিম

গত ৭ জুন ২০২৬ তারিখে ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার গোয়াতলা এলাকায় কংস নদীর ওপর নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ স্টিল ব্রিজটি বালুবাহী ট্রাকের অতিরিক্ত চাপে ধসে পড়ার পর থেকে চরম দুর্ভোগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিপর্যয় নেমে এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে চাকরিজীবী, ব্যাংকার, ব্যবসায়ী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষের দৈনন্দিন জীবনে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৭ জুন একটি বালুবাহী ট্রাক ব্রিজটি অতিক্রম করার সময় হঠাৎ করেই ব্রিজের একটি অংশ ধসে নদীতে পড়ে যায়। এতে ট্রাকটিও দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। তবে সৌভাগ্যবশত এ ঘটনায় কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই ব্রিজটির বিভিন্ন অংশ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। বাঁশ ও কাঠ দিয়ে সাময়িকভাবে মেরামত করে যানবাহন চলাচল অব্যাহত রাখা হলেও স্থায়ী সংস্কার কিংবা নতুন ব্রিজ নির্মাণে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অবশেষে অবহেলা ও অতিরিক্ত ভার বহনের কারণে ব্রিজটি সম্পূর্ণভাবে ধসে পড়ে।

ব্রিজটি ধসে যাওয়ায় গোয়াতলা ও আশপাশের কয়েকটি গ্রামের সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন হাজারো মানুষকে বিকল্প পথে দীর্ঘ পথ ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থ—দুইয়েরই অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, রোগী, চাকরিজীবী ও সাধারণ পথচারীরা।

পাহাড়ি ঢলে কংস নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ফেরির মাধ্যমে নদী পারাপার করছেন শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ। অনেকেই আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠার মধ্যেই গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা, অভিভাবক ও পথচারীরা জানান, “একটি ব্রিজ ধসে পড়ায় পুরো এলাকার জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। আমরা দ্রুত বিকল্প চলাচলের ব্যবস্থা এবং স্থায়ীভাবে একটি নতুন ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।”

এ বিষয়ে হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া আসনের সংসদ সদস্য মোঃ সালমান ওমর রুবেল বলেন,

“কংস নদীর স্টিল ব্রিজটি ধসে পড়ায় আমিও অত্যন্ত মর্মাহত ও উদ্বিগ্ন। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য আমি ব্যক্তিগত উদ্যোগে দুটি ফেরির ব্যবস্থা করেছি। এছাড়াও এই ঘাটে আরও কয়েকটি ফেরির মাধ্যমে মানুষ পারাপার করছে। ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় ময়মনসিংহ থেকে সরাসরি অনেক বাস চলাচল করতে পারছে না, যা আমাদের জন্যও অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টি আমি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও বিভিন্ন দপ্তরে অবহিত করেছি। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যেই স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এলাকাবাসী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সর্বস্তরের জনগণ আশা করছেন, জনদুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত একটি নতুন ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করবে। তাদের প্রত্যাশা, হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া আসনের সংসদ সদস্য মোঃ সালমান ওমর রুবেলের প্রচেষ্টার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং বহু প্রতীক্ষিত এই যোগাযোগ সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে। 

মন্তব্য করুন