রফিকুল ইসলাম,সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
ষড়ঋতুর দেশ বাংলাদেশ। গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত এই ছয় ঋতুর বাংলাদেশের বসন্ত ঋতুকে বলা হয় ‘ঋতুরাজ বসন্ত’। ফাল্গুন ও চৈত্র এই দুই মাস নিয়ে গঠিত বসন্ত ঋতুতে প্রকৃতি যেন নতুনরূপে সাজে। বসন্ত ঋতুতে গাছের পুরাতন পাতাগুলো ঝরে গিয়ে নতুন নতুন পাতা গজায়। নতুন গজানো গাছের কচিপাতা থাকাবস্থায় বৃক্ষরাজিকে দেখা যায় এক নতুন রঙে। আবার সেই পাতাগুলো সবুজ রং ধারণ করলে নতুন সেইরূপে পুরো বৃক্ষরাজির রং বদলে যায় এবং সেই সৌন্দর্যে প্রকৃতিই যেন নতুন রূপ ধারণ করে। আর কবি প্রমথ চৌধুরীর ভাষায়, প্রকৃতির এই রূপ যেন নববধূর সাজে সাজানো রূপ এবং প্রকৃতিই যেন সেজেছে নববধূর নতুন সাজে। বসন্ত ঋতুতে গাছে গাছে নতুন পাতা গজানোর পাশাপাশি ফলজ বৃক্ষগুলোতে নতুন নতুন ফুলও ফোঁটে। বসন্ত ঋতুতে গাছে গাছে ফোঁটা ফুলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় হলো আমের মুকুল।
শাহজাদপুর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। উপজেলার প্রতিটি গ্রামের বেশিরভাগ বাড়িতেই আম গাছ আছে। আর ওইসব আম গাছে আসা মুকুল থেকে ছড়াচ্ছে মৌ মৌ ঘ্রাণ। এখন চলছে ফাগুনের দ্বিতীয় সপ্তাহ। ফাল্গুন ও চৈত্র মাস নিয়ে গঠিত বসন্ত ঋতুতে আগাম আসা আমের মুকুলগুলো ফাল্গুন মাসের শুরুতে এবং নাবি (পরে আসা) মুকুলগুলো এই মাসের শেষের দিকে ঝরে যায় এবং আমের গুঁটি বের হওয়ার অপেক্ষায় থাকে। আর সেই আমের গুঁটি থেকেই পরবর্তীতে হয় আম। মহান আল্লাহর সৃষ্টি এই পৃথিবীর ফলজ বৃক্ষের সকল ফলই সুস্বাদু হলেও আম ফলকেই সবচেয়ে বেশি সুস্বাদু ফল বলে ধারণা করা হয়। মৌসুমী ও সুস্বাদু এবং রসে ভরা এই আম সাধারণতঃ জৈষ্ঠ্য মাসে পাকে। আর সেই রসে ভরা আমের স্বাদকে মধুর সাথে তুলনা করেই গ্রীষ্ম ঋতুর জৈষ্ঠ্য মাসকে ‘মধু মাস’ বলা হয়। আর এই মধু মাসের মধু বলতে আমের রসকে বুঝানো হয়েছে। আম গাছের মুকুলে যখন গাছ ছেঁয়ে যায়, তখন মুকুলের মৌ মৌ সুগন্ধে কীট-পতঙ্গ, পাখি এবং বিশেষ করে মৌমাছিরা আকৃষ্ট হয়। এজন্য মৌমাছির দল ঘুরে ঘুরে এবং উড়ে উড়ে আমের মুকুলে বসে ঘ্রাণের স্বাদ গ্রহণ এবং মধু সংগ্রহ করে। তাছাড়াও অন্যান্য কীট-পতঙ্গও আমের মুকুলে উড়ে উড়ে বসে। আর রাতের বেলায় মুকুলে ভরা ওইসব আম গাছে শুনা যায় ছোট ছোট পাখির কিচিরমিচির শব্দ। শুধু বাড়িতে নয়। সরেজমিনে গিয়ে শাহজাদপুর চৌকি আদালত এলাকায় সারি সারি আম গাছে আসা আমের মুকুল দেখা যায়। আম গাছের মুকুল বের হওয়া থেকে শুরু করে ঝরে যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত যদি আম গাছ বৃষ্টির কবলে না পড়ে এবং কুয়াশাচ্ছন্ন না হয়, তাহলে আমের ফলন ভালো হয়। পাশাপাশি, আমের গুঁটি বের হবার পর যদি এক-দুবার বৃষ্টির ছোঁয়া পায় তাহলে, আমের গুঁটি শক্তভাবে বোঁটায় ঝুলে থাকে। অন্যথায়, অতিরোদ এবং গরমে আমের গুঁটিগুলো ঝরে গিয়ে আমের ফলন নষ্ট হয়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, এ বছর আমের মুকুল অতিবৃষ্টি বা অতি কুয়াশার কবলে পড়েনি। গুঁটি বের হবার পর মাঝে যদি একটু বৃষ্টির ছোঁয়া পায়, তাহলে গুঁটিগুলো শক্তও হবে এবং আমের ফলনও ভালো হবে ইনশাআল্লাহ।
