ePaper

শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল,পরিবারের সন্তোষ প্রকাশ

শেখ ইলিয়াস মিথুন,মাগুরা প্রতিনিধি

মাগুরার বহুল আলোচিত শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রধান আসামি হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর শুনানি শেষে তার মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। সোমবার (৩১ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

হাইকোর্টের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত শিশু আছিয়ার মা ও মামলার বাদী আয়েশা আক্তার। তবে দ্রুততম সময়ে আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

আদালত সূত্র ও মামলার নথি অনুযায়ী, এর আগে গত ২৫ আগস্ট এ মামলার রায় ঘোষণার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে শুনানি শেষে সোমবার রায়ের জন্য দিন ধার্য করা হয়।

মাত্র ১৪ কার্যদিবসে বিচারিক কার্যক্রম শেষ হওয়া এ মামলায় ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। একই বছরের ২৩ এপ্রিল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। এরপর ২৭ এপ্রিল সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৯ জনের সাক্ষ্য নেওয়ার পর ৭ মে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। পরে ১৩ মে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ১৭ মে রায় ঘোষণা করেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান।

রায়ে আট বছরের শিশু আছিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে প্রধান আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই মামলায় আছিয়ার বোনের স্বামী সজীব শেখ, তার ভাই রাতুল শেখ ও মা জাহেদা বেগমকে খালাস দেন আদালত।

বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলাটি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পাশাপাশি মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন আসামি হিটু শেখ। দীর্ঘ শুনানি শেষে সোমবার হাইকোর্ট বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন।

রায় ঘোষণার পর আছিয়ার মা ও মামলার বাদী আয়েশা আক্তার বলেন, হাইকোর্টে হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখায় তিনি খুশি। তবে দ্রুত এই রায় কার্যকর দেখতে চান তিনি।

তিনি বলেন, হাইকোর্টে হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রেখেছেন, এতে আমি খুশি হয়েছি। আমার মেয়ের হত্যার ন্যায়বিচার পেয়েছি। এখন আমি চাই, দ্রুত এই রায় কার্যকর করা হোক।

এদিকে হাইকোর্টের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন আছিয়ার স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারাও। তাদের প্রত্যাশা, সব আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে। এতে শিশু ও নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে একটি দৃষ্টান্ত তৈরি হবে বলে মনে করছেন তারা।

পরিবার ও স্বজনদের প্রত্যাশা, হাইকোর্টের রায়ের পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে অচিরেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে এবং দেশবাসী শিশু ধর্ষণ ও হত্যার মতো জঘন্য অপরাধের একটি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে।

উল্লেখ্য, শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলাটি মাগুরায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। মামলার দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন সময় স্থানীয়ভাবে প্রতিবাদ ও কর্মসূচিও পালন করা হয়। হাইকোর্টের রায়ে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকায় দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শেষ হলো। এখন দণ্ড কার্যকরের অপেক্ষায় আছিয়ার পরিবার ও স্বজনরা।