ePaper

নবীনগরে হোপের উদ্যোগে দরিদ্র পরিবারের স্বাবলম্বিতায় নতুন দিগন্ত ২৫ উপকারভোগীর মাঝে ৫০টি ছাগল বিতরণ অনুষ্ঠিত

হেলাল উদ্দিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি

১৮ জুলাই ২০২৬: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে সুবিধাবঞ্চিত ও দরিদ্র পরিবারের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং টেকসই জীবিকা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা হোপ-এর উদ্যোগে বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশন (বিএনএফ)-এর অর্থায়নে ২৫ জন উপকারভোগীর মাঝে বিনামূল্যে ৫০টি ছাগল বিতরণ করা হয়েছে। শনিবার (১৮ জুলাই) হোপের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনের মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নবীনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ হোসেন শান্তি, হোপ সংস্থার সাবেক সভাপতি মো. হুমায়ুন কবির, সহ-সভাপতি মো. ইকবাল হুসেন এবং সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. বজলুর রহমান।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হোপের কার্যনির্বাহী পরিষদের সভাপতি মোহাম্মদ ইউনুছ। সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মো. আবু কাওছারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন হোপের নির্বাহী পরিচালক এ কে এম আসাদুজ্জামান। তিনি সংস্থার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে হোপের দীর্ঘদিনের ভূমিকা তুলে ধরেন।প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা বর্তমান সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ। দাননির্ভরতা নয়, বরং আয়বর্ধক সম্পদ প্রদান করে মানুষকে স্বাবলম্বী করে তোলার উদ্যোগই টেকসই উন্নয়নের মূল ভিত্তি। তিনি হোপ এবং বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের এ ধরনের উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, একটি ছাগল শুধু একটি সম্পদ নয়, এটি একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক নিরাপত্তা গড়ে তোলার মাধ্যম হতে পারে। বিশেষ অতিথিরাও তাঁদের বক্তব্যে বলেন, সমাজের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হোপ দীর্ঘদিন ধরে নবীনগর এলাকায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও মানবসম্পদ উন্নয়নে যেভাবে কাজ করে যাচ্ছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।বক্তারা আরও বলেন, হোপ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আয় বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই জীবিকা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন বাস্তবমুখী প্রকল্প বাস্তবায়ন করে আসছে। ছাগল পালন একটি লাভজনক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা কার্যক্রম হওয়ায় এই সহায়তা উপকারভোগীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করবে। পাশাপাশি পরিবারগুলোর পুষ্টি, সঞ্চয় এবং আর্থিক নিরাপত্তা বৃদ্ধিতেও এ উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে হোপ ২০১৩ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করে আসছে। প্রথম পর্যায়ে ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রতিবন্ধী শিক্ষা ও চিকিৎসা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ে ৫০ জনকে ছয় মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ প্রদান শেষে তাদের মাঝে ৫০টি সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়, যাতে তারা আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে আয় করতে পারেন। চতুর্থ ও পঞ্চম পর্যায়ে ১০ জন উপকারভোগীর মধ্যে গরু বিতরণ করা হয়। এছাড়াও ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে বিশেষ অনুদান প্রকল্পের আওতায় ১০টি গবাদিপশু প্রদান এবং ৫০টি স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে।

আয়োজকরা জানান, এসব প্রকল্পের মাধ্যমে শতাধিক পরিবার সরাসরি উপকৃত হয়েছে এবং অনেক পরিবার ইতোমধ্যে নিজস্ব আয়ের উৎস তৈরি করে স্বাবলম্বী জীবনের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দক্ষতা উন্নয়ন, কৃষি ও প্রাণিসম্পদভিত্তিক আরও বিভিন্ন আয়বর্ধক কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।অনুষ্ঠানের শেষপর্যায়ে প্রধান অতিথি নির্বাচিত ২৫ জন উপকারভোগীর হাতে বিনামূল্যে ৫০টি ছাগল এবং ফলজ গাছের চারা তুলে দেন। এ সময় হোপের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক, সুধীজন এবং উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।উপকারভোগীরা এ সহায়তা পেয়ে আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাদের ভাষ্য, এই ছাগল পালন করে তারা পরিবারের আয় বাড়াতে পারবেন এবং ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে খামার গড়ে তোলার স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ সৃষ্টি হবে। তারা হোপ ও বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *