ePaper

দুই মাসেই ভেঙে পড়েছে গাইডওয়াল, তদন্ত ও ল্যাবরেটরি পরীক্ষার দাবি

হাবিবুর রহমান, গাইবান্ধা।

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার মলং বাজার সড়কের নির্মাণকাজে বেসকোর্স ও ডইগ (ডবঃ ইড়ঁহফ গধপধফধস) কাজে নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে মহেশপুর এলাকায় নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার মাত্র দুই মাসের মধ্যে প্রটেকশন গাইডওয়ালের একটি অংশ ভেঙে পড়ায় সড়কটির নির্মাণমান ও ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সড়কের বেসকোর্স ও ডইগ কাজে নির্ধারিত মানের পরিবর্তে দুই ও তিন নম্বর মানের ইট এবং রাবিশ মিশ্রিত ইটের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে সড়কের স্থায়িত্ব ও নির্মাণমান নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

গত ১৩ আগস্ট সরেজমিনে মলং বাজার সড়ক পরিদর্শনকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে এসব অভিযোগের বিষয়ে জানা যায়। তবে ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রী প্রকৃতপক্ষে নির্ধারিত মানসম্পন্ন কি না, তা কারিগরি পরীক্ষা ছাড়া নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়। তাই অনুমোদিত ল্যাবরেটরিতে নির্মাণসামগ্রীর নমুনা পরীক্ষা এবং প্রকল্পের কারিগরি স্পেসিফিকেশন যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) গাইবান্ধা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। আবেদনে মলং বাজার সড়কের নির্মাণকাজ সরেজমিনে কারিগরি পরিদর্শন, বেসকোর্স ও ডইগ কাজে ব্যবহৃত খোয়ার গ্রেড ও মান পরীক্ষা এবং খোয়া, ইট, বালু ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রীর নমুনা যথাযথ প্রক্রিয়ায় সংগ্রহ করে অনুমোদিত ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আবেদনে বেসকোর্স ও ডইগ-এর পুরুত্ব, উপকরণের গ্রেড, মিশ্রণ, কম্প্যাকশন/ঘনত্বসহ অন্যান্য কারিগরি বিষয় অনুমোদিত প্রাক্কলন ও স্পেসিফিকেশনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রকল্পের নকশা, প্রাক্কলন, কার্যাদেশ, ইড়ছ ও সংশ্লিষ্ট কারিগরি স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী কাজ হয়েছে কি না, তাও যাচাইয়ের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এদিকে মহেশপুর এলাকায় নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার মাত্র দুই মাসের মধ্যে প্রটেকশন গাইডওয়ালের একটি অংশ ভেঙে পড়ার বিষয়টি নিয়েও তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। গাইডওয়াল ভেঙে পড়ার প্রকৃত কারিগরি কারণ নির্ধারণের জন্য সরেজমিন পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করার অনুরোধ করা হয়েছে।

আবেদনকারী হাবিবুর রহমান বলেন, “নির্মাণকাজে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে—এমন অভিযোগ স্থানীয়দের কাছ থেকে পাওয়া গেছে। অভিযোগের সত্যতা আমি চূড়ান্তভাবে দাবি করছি না। নিরপেক্ষ কারিগরি তদন্ত ও ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত বিষয়টি নির্ধারণ করা প্রয়োজন।”

তিনি আরও বলেন, সরকারি অর্থে বাস্তবায়নাধীন গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের নির্মাণকাজে নিম্নমানের উপকরণ বা স্পেসিফিকেশনবহির্ভূত কাজ হয়ে থাকলে তা সড়কের স্থায়িত্ব কমানোর পাশাপাশি সরকারি অর্থের অপচয়ের কারণ হতে পারে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রচলিত বিধি ও চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা এবং ত্রুটিপূর্ণ অংশ সংশোধন বা পুনর্র্নিমাণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

আবেদনে তদন্ত ও পরীক্ষার ফলাফল এবং পরবর্তী ব্যবস্থা সম্পর্কে আবেদনকারীকে অবহিত করারও অনুরোধ জানানো হয়েছে।

WordPress database error: [Index for table 'wp_postmeta' is corrupt; try to repair it]
SELECT post_id, meta_key, meta_value FROM wp_postmeta WHERE post_id IN (22205,22896,3247) ORDER BY meta_id ASC