আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রবল ও টানা বর্ষণ এবং বৃষ্টিজনিত বিভিন্ন দুর্ঘটনায় ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যে শনি ও রোববার ৪৮ ঘণ্টায় ১৭ জন নিহত হয়েছেন। আজ সোমবার উত্তরপ্রদেশের রাজ্য সরকারের ত্রাণ কমিশনারের দপ্তর থেকে দেওয়া এব বিবৃতিতে জানানো হয়েছে এ তথ্য।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার থেকে বৃষ্টি শুরু হয়েছে উত্তরপ্রদেশে এবং রাজ্যের ৭৫টি জেলার মধ্যে ৬৩টিতে স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে গত ২৪ ঘণ্টায়। ত্রাণ কমিশনারের বিবৃতির তথ্য অনুসারে, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যজুড়ে ২০০ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে, তা স্বাভাবিকের চেয়ে ১৯ গুণ বেশি।
“গত ৪৮ ঘণ্টায় উত্তরপ্রদেশের আমেথি, বাহরাইচ, বান্দা, বারাবাঙ্কি, বাস্তি, ফতেহপুর, হামিরপুর, হারদোই এবং কানপুর জেলা থেকে একজন করে, অযোধ্যায় দুইজন এবং লখিমপুর খেরিতে চারজনের মৃতুর খবর পাওয়া গেছে,” বলা হয়েছে ত্রাণ কমিশনারের বিবৃতিতে।
কৃষকরা জানিয়েছেন, ভারী বৃষ্টিপাতের জেরে মাঠে থাকা ফসল তলিয়ে গেছে; সেই সঙ্গে রবিশস্যের বীজ বপনও পিছিয়ে গেছে।
ওড়িশা
উত্তরপ্রদেশের মতো ঝড়বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত ওড়িশা রাজ্যও। গত ৪৮ ঘণ্টায় ওড়িশায় দুর্যোগের কারণে ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ৪০ হাজার মানুষকে নিরাপদে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে। ঝড়বৃষ্টির প্রভাবে বিশেষ ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ওড়িশার দক্ষিণপ্রান্ত। ওড়িশার রাজ্য সরকার জানিয়েছে, অতি বৃষ্টির কারণে কয়েক হাজার হেক্টর ফসলি জমির ফসল নষ্ট হয়েছে।
বিহার
নেপাল এবং সংলগ্ন অববাহিকা অঞ্চলে অবিরাম বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে বিহারেও। অতিবৃষ্টির কারণে বাল্মীকিনগর জলাধার থেকে ক্রমাগত জল ছাড়া হচ্ছে। আর সেই কারণে গণ্ডক নদীর জলস্তর বেড়েই চলেছে। কোথাও কোথাও নদীর জল পার উপচে ঢুকে পড়েছে গ্রামে। বাড়িঘর ডুবে গিয়েছে। শুধু জল ছাড়ার কারণে নয়, বৃষ্টিও নদীর জলস্ফীতির অন্যতম কারণ।
ছত্তীশগড়
বিহারের পাশাপাশি ছত্তীশগড়েও হয়েছে প্রবল বর্ষণ। অতিবৃষ্টির কারণে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় জল জমে রয়েছে। বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থাও। প্রশাসনিক কর্তারা জানিয়েছেন, বৃষ্টির করণে আটটি জেলায় স্কুল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার কোণ্ডাগাঁও জেলায় জলমগ্ন ধানজমিতে মাছ ধরতে নেমে নালায় পড়ে যান ৪০ বছর বয়সি এক যুবক। আর উঠতে পারেননি। পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়েছে তার।
সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস
