সৌমিত্র সুমন, কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি :
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় এলপিজি গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বসুন্ধরা গ্রুপের এলপিজি গ্যাস একেবারেই পাওয়া যাচ্ছে না। অন্যান্য কোম্পানির গ্যাস সীমিত পরিসরে মিললেও সেগুলোর দাম আগের তুলনায় অনেক বেশি হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা। বর্তমানে ১২ কেজি ওজনের এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার ১ হাজার ৪০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যেখানে কিছুদিন আগেও একই সিলিন্ডার পাওয়া যেত ১ হাজার ২০০ টাকায়। ফলে সিলিন্ডারপ্রতি দাম বেড়েছে ২০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত। গত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে উপকূলীয় এ এলাকায় এমন সংকট বিরাজ করছে।
এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটার হোটেল-মোটেল ও রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীরা। পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ না থাকায় তারা বাধ্য হয়ে বেশি দামে গ্যাস কিনছেন এবং সেই প্রভাব পড়ছে খাবারের দামের ওপরও।
ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় বেশি দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে। সে কারণে কিছুটা বাড়তি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
ভুক্তভোগী ক্রেতা সৈয়দ রাসেল বলেন, “কয়েক দিন ধরেই গ্যাসের তীব্র সংকট চলছে। গত সপ্তাহে বসুন্ধরা গ্যাস কিনেছি ১ হাজার ৬০০ টাকায়। এখন বাজারে এসে দেখি বসুন্ধরা গ্যাস একেবারেই নেই। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনা জরুরি।”খুচরা বিক্রেতা বাবুল জানান, “আগে ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় গ্যাস কিনতাম। এখন সেই গ্যাস কিনতেই ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা লাগছে। এভাবে চলতে থাকলে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে যাবে।” কলাপাড়ার এক শিক্ষিকা নাজমা আক্তার বলেন, “এমনিতেই নিত্যপণ্যের দাম দ্বিগুণ হয়ে গেছে। তার ওপর গ্যাসের দাম ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেড়ে যাওয়ায় সংসার চালানো খুব কষ্টকর হয়ে পড়েছে।”
এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কাউছার হামিদ বলেন, “কেউ যদি গ্যাস মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অথবা অতিরিক্ত দামে বিক্রি করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
