সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের (১৯) মৃত্যুর বিষয়ে কথা বলেছেন তার বাবা ও মা। মেয়ের মৃত্যুর জন্য নিজের শ্যালক ওবায়দুর রহমানকে দায়ী করে তার বিচার দাবি করেছেন মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এসব অভিযোগ করেন।
মাসুম বিল্লাহ ‘আমার মেয়েকে এই রাস্তায় আনার জন্য ওবায়দুল দায়ী। ওবায়দুল আমার মেয়েকে এই রাস্তায় নিয়ে আসছে। আজকে এমপির সাথে সম্পর্কে জড়ানোর মূলহোতা হলো ওবায়দুল্লাহ। ও টাকার লোভ জড়াই দিয়ে আমার মেয়েকে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে হয়েছে।মরিয়মের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে তার সম্পর্কের সূত্রপাত ঘটান মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমান। তিনি গাজী নজরুল ইসলামের গাড়িচালক ছিলেন। পরিবারের অভিযোগ, ওবায়দুর রহমান মরিয়মকে ব্যবহার করে নজরুল ইসলামের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করেন। পরে চাকরি ও টাকার প্রলোভনসহ বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে মরিয়মকে বিয়ে করেন নজরুল।
পরিবারের অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে সরকারি বাসভবনে নিয়ে গিয়ে গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মরিয়মকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন। এর মাধ্যমে তাকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।
মরিয়মের বাবা বলেন, ‘আমি কথা বলার মানসিকতায় নেই। ওবায়দুর রহমান সবচেয়ে বড় ক্রিমিনাল, সব কাজের গোড়া। ও সবকিছু করেছে। আমি চাই ওর ফাঁসি হোক। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ও ফাঁসাইছে। ও আমাদের ফ্যামেলি তছনছ করে দিয়েছে। ওবায়দুল যেন কোনোভাবেই বাঁচতে না পারে।’
মরিয়মের বাবার করা মামলায় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম এবং ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। পরে এ মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
মরিয়ম কতদিন ধরে ওই ফ্ল্যাটে থাকতেন- জানতে চাইলে তার বাবা বলেন, ‘বিয়ের পর থেকেই তার মেয়ে সেখানে থাকতেন।’
মেয়ের কাছ থেকে কখনো কোনো অভিযোগ পেয়েছিলেন কি না জানতে চাইলে মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘না, আমার কাছে কিছু বলেনি।’
মরিয়মের মৃত্যুর পর চিঠির বিষয়েও কথা বলেন তার বাবা। তিনি জানান, পুলিশ তাকে চিঠিগুলো দেখিয়েছে। তবে সেগুলো মরিয়মের হাতের লেখা কি না, তা তিনি নিশ্চিত নন।
মরিয়মের হাতের লেখা তিনি চেনেন কি না জানতে চাইলে মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘আমি ওর হাতের লেখা খুব একটা চিনি না। মানে আমি সবসময় ব্যবসার কাজে বাইরে থাকি তো, ওর হাতের লেখা আমার অতটা চেনা না।’
এ বিষয়ে তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. ফজলুল করিম গণমাধ্যমকে বলেন, প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, চিরকুটটি মরিয়মের হতে পারে। তবে লেখাটি মরিয়মের কি না, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
মেয়েকে বিয়ের পর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে তার কী ধরনের যোগাযোগ ছিল কি না জানতে চাইলে মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘এমনি সবদিনে কথা হয়। ভালো কথাই তো হতো।’
গাজী নজরুল ইসলাম তার কী হন- জানতে চাইলে মরিয়মের বাবা বলেন, ‘তিনি আমার খালু, আপন খালু।’
এর আগে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই সময় ফ্ল্যাটে থাকা গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রীকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়নে সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন গাজী নজরুল ইসলাম।
চলতি বছর তার ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে এক তরুণীর সঙ্গে তাকে দেখা যায়। পরে গাজী নজরুল ইসলাম জানান, ওই তরুণী তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুন।
এরপর গত ২২ জুলাই জামায়াতে ইসলামী গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্পিকার, নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে চিঠি দেয় দলটি। তবে তার সংসদ সদস্য পদ এখনো বহাল রয়েছে।
