ePaper

ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে ফরিদপুরে মতবিনিময় সভা: জ্বালানি তেল সংকট দ্রুত সমাধানের আশ্বাস

ব্যুরো চিফ, ফরিদপুর:

আসন্ন ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করা, সরকার নির্ধারিত মূল্যে জ্বালানি তেল বিক্রয় এবং এর সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে ফরিদপুরে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় জেলার পেট্রলপাম্প মালিকরা জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের বিষয়টি তুলে ধরলে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন সংশ্লিষ্টরা।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় ফরিদপুর জেলা পেট্রলপাম্প মালিক সমিতির সভাপতি ওয়াহিদ মিয়া কুটি বলেন, জেলায় প্রতিদিন প্রায় আড়াই লাখ লিটার জ্বালানি তেলের চাহিদা থাকলেও ডিপো থেকে তার অর্ধেকেরও কম সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে জেলার প্রায় ৪০টি পেট্রলপাম্পের অধিকাংশেই তেলসংকট দেখা দিয়েছে এবং ইতোমধ্যে অন্তত ১০টি পাম্প বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে চট্টগ্রাম থেকে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার তেল সরবরাহ দেওয়া হলেও শুক্রবার ও শনিবার সরবরাহ দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়েছে। এভাবে সরবরাহ অব্যাহতভাবে কমতে থাকলে রোববার থেকে জেলার অধিকাংশ পাম্পে তেল দেওয়া সম্ভব হবে না। তাই দ্রুত উচ্চপর্যায়ে উদ্যোগ নিয়ে ফরিদপুরে জ্বালানি তেলের সরবরাহ বাড়ানোর দাবি জানান তিনি।

পাম্প মালিকদের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়, তেলসংকটের কারণে বিভিন্ন পাম্পে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে পাম্পকর্মীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং কোথাও কোথাও মারধরের ঘটনাও ঘটছে। কেউ সাংবাদিক, কেউ পুলিশ বা রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে অতিরিক্ত তেল নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও তারা উল্লেখ করেন। এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন ও পুলিশের সহযোগিতা কামনা করা হয়।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদ। তিনি বলেন, বর্তমান জ্বালানি তেলসংকট কেবল স্থানীয় কোনো সমস্যা নয়; আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিরও এর সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি হয়েছে, যার প্রভাব বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও পড়ছে।

তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে জ্বালানি তেলবাহী কয়েকটি জাহাজ ভিড়েছে এবং সেখান থেকে পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ বাড়ানো হবে। ফরিদপুরে যাতে জ্বালানি তেলের সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক হয় সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

তিনি বলেন, “জনগণের ভোগান্তি কমানো এবং ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।” এ সময় তিনি সকল পক্ষকে ধৈর্য ধারণ, আইন মেনে চলা এবং অযথা চাপ সৃষ্টি না করার আহ্বান জানান।

সভায় জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্লার পক্ষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন, জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি কামরুজ্জামান সিদ্দিকী, জেলা পেট্রলপাম্প মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সাময়িকভাবে জ্বালানি তেল বিক্রিতে কিছু সীমা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিদিন মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ ১০০ টাকার এবং প্রাইভেটকারে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকার জ্বালানি দেওয়া হবে। তবে অ্যাম্বুলেন্স ও দূরপাল্লার পরিবহনগুলোকে প্রয়োজন অনুযায়ী তেল সরবরাহ করা হবে।

সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা গেলে জেলার পরিবহন ব্যবস্থা সচল থাকবে এবং ঈদযাত্রাও নির্বিঘ্ন করা সম্ভব হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *