ePaper

সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে যমুনার  তীর রক্ষা বাঁধে ধস

রফিকুল ইসলাম,সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার নতুন মেঘাই নামক স্থানে হঠাৎ করে যমুনা নদীতীর রক্ষার জন্যে নির্মিত পুরাতন বাঁধে ধস শুরু হয়েছে। গত শুক্রবার রাত থেকে গত শনিবার পর্যন্ত বাঁধের প্রায় ৬৫ মিটার এলাকা ধসে গেছে। রাতেই খবর পেয়ে কাজিপুর সেনাক্যাম্পের সদস্যরা ওই ধস ঠেকাতে বালিভর্তি জিওব্যাগ ফেলানোর কাজ শুরু করে। এদিকে শুষ্ক মৌসুমে বাঁধ ধসের ঘটনায় নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

নতুন মেঘাই গ্রামের আব্দুল খালেক ও জামিল জানায়, যেভাবে বাঁধ ভাঙ্গছে তাতে আমার বাড়িও ভাঙবে। এবার যদি বাড়ি ভাঙ্গে তা হলে গাছতলা থাকা ছাড়া আমার কোন পথ থাকবে না। ইতিপূর্বেও আমরা তিন তিন বার নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়েছি। জামি ও বাড়ি হারিয়ে এখন আমরা দিন মুজুরের কাজ করে খাই। নাম মাত্র বাড়ি হারানো হবে আমাদের আত্বহত্যার শামিল। ভাঙন এলাকার হাছিনা, মাজেদ ও আছাতন বলেন, একাধিকবার নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়ে আমরা এখানে আশ্রয় নিয়েছিলাম। জমিজমা সব কিছু হারিয়েছি। মাথা গোজার ঠাইটাও যদি হারাই তা হলে আমাদের দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করা ছাড়া কোনো পথ থাকবে না।

সরেজমিনে ওই এলাকায় দেখা গেছে, সেনাবাহিনীর সঙ্গে মানুষও বাঁধের ধস ঠেকাতে জিওব্যাগে বালি ভর্তি ও ফেলানোর কাজ করছে। কাজিপুর আর্মি ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত ক্যাম্প কমান্ডার সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মো. শরিফুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে এই কাজ চলছে। জেলা পানি উন্নয়ন রোর্ডের উপ সহকারি প্রকৌশলী (এসও) হাফিজুর রহমান বলেন, সংবাদ পেয়েই আমরা ঘটনাস্থলে আসি। পরে সেনাসদস্যদের সহায়তায় ভাঙন ঠেকাতে শনিবার প্রায় ৬৫০টি বালিভর্তি জিওব্যাগ ফেলা হয়েছে। তিনি আরও জানান, মূলত বাঁধের প্রায় দুইশ মিটার নদীর অভ্যন্তরে বিশাল চর জেগে ওঠেছে। ফলে নদীর স্রোত এসে সরাসরি তীরে আছড়ে পড়ছে। এর ফলে এই ধসের সৃষ্টি হয়েছে। তবে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলে তিনি জানান।

ভাঙ্গনে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কয়েক বছর ধরে অবৈধভাবে যমুনা নদী থেকে বালু উত্তোলন ও নদীর তীরে একাধিক স্থানে বালুর স্তুপ করে রাখার কারণে নদীর ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে। অতিস্বত্বর অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ ও ভাঙ্গন রোধে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য দাবি জানান।

এ বিষয়ে কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সাবরিন আক্তার জানান, বাঁধের ধ্বসের সংবাদ পেয়ে তিনি এলাকা পরিদর্শন করেছেন। ধস ঠেকানোর জন্য ইতিমধ্যেই বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। বর্তমানে ধস নিয়ন্ত্রণে আছে। স্থানীয়দের আতঙ্কে হওয়ার কিছু নেই। পরবর্তীতে ভাঙন যেন প্রসার লাভ না করে তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *