হামিদুল্লাহ সরকারঃ
নীলফামারীতে নদীর বালু চুরিতে বাঁধা দেয়ায় সংঘর্ষে ৬ জন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। অভিযোগে জানা যায়, নীলফামারী সদর উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের গাংবের এলাকার চাড়ালকাটা নদীর ধারের মিনহাজুল, সিফাত গংদের জমিতে থাকা চাড়ালকাটা নদীর বালু বেড়াডাঙ্গা গ্রামের মিলন চৌধুরী ও তার দলীয় লোকজন ট্রাক্টর দিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় সিফাত, মিনহাজুল গংরা বাঁধা দিতে গেলে মিলন চৌধুরী ও তার লোকজন লাঠি, ছোড়া ও দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এসে সিফাত, মিনহাজুল গংদের উপর চড়াও হয়ে এলোপাতাড়ি মারপিট শুরু করলে গুরুতর আহত হয় শেফালী বেগম, সিফাত, মিনহাজুল, শিবির ও আরিফা বেগম। অপর পক্ষে মিলন চৌধুরীর পক্ষে আহত হয় মাসুম। আহতদের নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সরে জমিনে গিয়ে জানা যায় গাংবের এলাকার শত শত লোক জানান, চাড়ালকাটা নদী খনন করে আমাদের জমিতে নদী খননের বালু রাখা হয়েছিল ওই বালুমহাল সরকারিভাবে ডাক দেয়া হয়। বালুমহাল ডাক করে নিয়েছিলেন মিলন চৌধুরী। এরপর সে তার ডাককৃত সরকারি বালু কেটে নিয়ে যায়। তবে তার ডাকের নির্ধারিত বালুর চেয়ে বেশি খনন করে আমাদের জমি খাল করে নিয়ে গেছে। এতে আমাদের ফসলি জমিতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। তার অতিরিক্ত খননের ফলে এই বর্ষা মৌসুমেই ১২- ১৩ বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতেই শেষ নয় বালু মহাল ডাকের সময়সীমা পার হয়ে গেলেও মিলন চৌধুরী তার ডাককৃত স্থান পার করে আমাদের জমির উপরের বালু কেটে নিয়ে যাচ্ছিল যা ডাক হয়নি। সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে সরকারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বালু খেকো মিলন চৌধুরী প্রতিনিয়ত এভাবে বালু মহালের বালু চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। এতে বাঁধা দেয়ায় মিলন চৌধুরী তার লোকজন দিয়ে পারপিট করে আমাদের ৫ জনকে গুরুতর আহত করেছে। তারা এখন নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। মিলন চৌধুরী তার ক্ষমতার প্রভাবে আমাদেরকে হুমকি দিয়েছেন তিনি বলেছেন, খবরদার যাদুরহাট আইসেন না, যাদুরহাট আসলে তোমাদের ব্যাবস্থা হবে। এ বিষয়ে মিলন চৌধুরীর সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমি আমার ডাকের বালু নিয়ে যাচ্ছি। বালু নিয়ে মারপিটের ঘটনায় আমার পক্ষেরও একজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। চাপড়া ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, আমার জানা মতে ওই বালু মহালের ডাকের মেয়াদ শেষ হয়েছে।
নীলফামারী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ বলেন, ওই ডাকের মেয়াদ ১ মাস আগেই শেষ হয়েছে। বেআইনিভাবে নদীর বালু চুরি করে নিয়ে গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেয়া হবে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
