ঢাকা, মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২০, ২৭ শ্রাবণ, ১৪২৭

বোয়ালমারীতে নিজ ইউনিয়ন পরিষদে থেকেই ভাতা তুলতে পারবেন

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীর আওতায় বয়স্ক, বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা এবং অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীর সংখ্যা ১৫ হাজার ৯০৩জন। এতদিন উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংক থেকে ভাতাভোগীদের জন্য বরাদ্দ টাকা পরিশোধ করা হতো। এ উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ভাতাভোগীরা নির্ধারিত দিনে ১৫-২০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ভাতার টাকা নিতে উপজেলা সদরে আসতেন। এতে ভাতার টাকা তুলতে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ, অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় ও প্রচুর সময়ের অপচয় হতো। মুজিববর্ষকে সামনে রেখে ভাতাভোগীদের কষ্ট লাঘবে করণীয় ঠিক করতে সমাজসেবা কার্যালয় ও উপজেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাব্যক্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিষয়টি নিয়ে চিন্তা ভাবনা শুরু করেন। এরই অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (১০.০৩.২০২০) উপজেলার চতুল ও ঘোষপুর ইউনিয়নের ভাতাভোগীদের নিজ নিজ ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়। সমাজসেবা কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ব্যাংক কর্মকর্তারা ওই দিন নিজ নিজ ইউপি কার্যালয়ে বসেই দুই ইউনিয়নের ভাতার টাকা পরিশোধ করেন। কাযক্রমটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ইউএনও ঝোটন চন্দ।

চতুল ইউপির রাজাপুর গ্রামের বৃদ্ধা ছাহেরা বেগম জানান, আগে ভাতার টাকা তুলতে সারাদিন উপজেলা সদরে গিয়ে বসে থাকতে হতো এবং আসা যাওয়ায় বাড়তি টাকা লাগতো। বাড়ির কাছে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ভাতার টাকা পেয়ে হয়রানি থেকে মুক্তি পেয়েছি। ঘোষপুর ইউনিয়নের লংকারচর গ্রামের ভাতাভোগী অসুস্থ্য মোসলেম মোল্লাকে সাথে করে নিয়ে এসেছেন স্ত্রী জবেদা বেগম। জবেদা বেগম বলেন, আমার স্বামী গত আড়াই বছর ধরে মারাত্মক অসুস্থ্য। আগে ১৫ কিলোমিটার দূরত্বে ব্যাংকে গিয়ে টাকা আনতে খুব কষ্ট হতো। এখন ইউনিয়ন পরিষদ থেকে আমাদের বাড়ির দূরত্ব তিন-চার কিলোমিটার। বাড়ির কাছ থেকে টাকা তুলতে পেরে আমাদের অনেক উপকার হয়েছে।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা প্রকাশ কুমার বিশ্বাস বলেন, ইউএনও স্যারের নির্দেশে আমরা ভাতাভোগীদের দুর্ভোগ ও কষ্ট লাঘবে সারসরি ভাতাভোগীদের নিজ নিজ ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় থেকে ভাতা বিতরণের কার্যক্রম শুরু করেছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঝোটন চন্দ জানান, আগে ভাতা বিতরণের নির্ধারিত দিনে কয়েক হাজার ভাতাভোগী এক সাথে উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থিত সমাজসেবা কার্যালয়ে হাজির হতো। এদের মধ্যে অশীতিপর বৃদ্ধ-বৃদ্ধা ও অসুস্থ্য লোকজনকে সকাল থেকে রাত অবধি ভাতার টাকার জন্য অপেক্ষা করে চরম কষ্ট স্বীকার করতে হতো। বিষয়টি মাথায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তা, ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান ও সমাজসেবা কার্যালয়ের সাথে বৈঠক করে আমি চলতি মাস থেকে সরাসরি ভাতাপ্রাপ্তদের নিজ নিজ ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ভাতা বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছি।