ঢাকা, শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২০, ২৪ শ্রাবণ, ১৪২৭

মার্চেই আসছে ২০০ টাকার নোট

দুইশ টাকার নোট বাজারে আসছে চলতি মার্চ মাসের ১৮ তারিখ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষ‌্যে এ নোট আনছে বাংলাদেশ ব‌্যাংক।

২০২০-২১ সালে ‘মুজিববর্ষ’ উদযাপন উপলক্ষে বাজারে প্রচলনযোগ‌্য এ নোট ছাড়াও ১০০ টাকা মূল্যমানের স্বর্ণ ও রৌপ্য স্মারক মুদ্রা, ১০০ টাকা মূল্যমানের স্মারক নোটও আনবে কেন্দ্রীয় ব‌্যাংক।

আগামী ১৮ মার্চ থেকে স্বর্ণ ও রৌপ্য স্মারক মুদ্রা ও ১০০ টাকা মূল্যমানের স্মারক নোট এবং ২০০ টাকা মূল্যমানের স্মারক ব্যাংক নোট বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিসসহ অন্যান্য শাখা অফিসে পাওয়া যাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক (ডিপার্টমেন্ট অব কমিউনিকেশন্স অ‌্যান্ড পাবলিকেশন্স) জী. এম. আবুল কালাম আজাদ এই তথ্য জানিয়েছেন।

১০০ টাকার স্মারক মুদ্রা, ১০০ টাকার স্মারক নোট এবং ২০০ টাকার ব‌্যাংক নোটের প্রত‌্যেকটিতে থাকবে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি। আর ২০০ টাকার স্মারক ব্যাংক নোটটি অন্যান্য ব্যাংক নোটের মতো দৈনন্দিন লেনদেনে ব্যবহৃত হবে।

বর্তমানে বাজারে ১ টাকা, ২ টাকা, ৫ টাকা, ১০ টাকা, ২০ টাকা, ৫০ টাকা, ১০০ টাকা, ৫০০ টাকা ও ১০০০ টাকার নোট প্রচলিত আছে। এর পাশাপাশি আছে ১, ২ ও ৫ টাকার কয়েন। কিন্তু ২০০ টাকার কোনো নোট নেই। এতে ৫০০ বা ১০০০ টাকার নোট ভাঙতির ক্ষেত্রে ১০০ টাকা বা তার কম মূল্যমানের নোটে বেশি চাপ পড়ে। যেমন কেউ ১০০ টাকার বাজার করে ৫০০ টাকার নোট দিলে ৪০০ টাকা ফেরত দিতে চারটি ১০০ টাকার নোটের প্রয়োজন হয়। একইভাবে ৪০০ টাকার জন্য আটটি ৫০ টাকা, ২০টি ২০ টাকা অথবা ৪০টি ১০ টাকা দিতে হচ্ছে।

এটা খুবই ব্যয়বহুল উল্লেখ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, লেনদেন আরো সহজ করতে ২০০ টাকার নোট এমনিতেই ছাড়ার চিন্তা করা হচ্ছিল। এখন বিশেষ উদ্দেশ্যকে ফোকাস করে আনা হচ্ছে বলে স্মারক ব্যাংক নোট বলা হচ্ছে।

তাঁরা আরও জানান, ২০০ টাকার নোট বের হলেই ১০০ টাকার চাহিদা অর্ধেক হয়ে যাবে। এতে ৫০০ টাকার চাহিদাও কমে আসবে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ১০০ টাকা অভিহিত মূল্যের স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রাও ছাড়া হবে। এর মধ্যে এক হাজার ১৫০টি স্বর্ণ মুদ্রা এবং পাঁচ হাজার রৌপ্য মুদ্রা ছাড়া হবে। ১০০ টাকা অভিহিত মূল্যের স্বর্ণ মুদ্রার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৩ হাজার টাকা। আর রৌপ্য মুদ্রার দাম ধরা হয়েছে ৩৫০০ টাকা।

উল্লেখ্য, প্রচলিত ব্যাংক নোট দিয়েই কেবল বাজারে সব ধরনের লেনদেন করা যায়। আর স্মারক নোট শখের বশে মানুষ সংগ্রহ করে থাকে। সাধারণত বিশেষ বিশেষ ঘটনা স্মরণীয় করে রাখতে স্মারক নোট ও মুদ্রা ছাড়ে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ পর্যন্ত ১২ ধরনের স্মারক নোট ও মুদ্রা ছেড়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অন্যদিকে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন মূল্যমানের ৫২ ধরনের প্রচলিত নোট ও ১১ ধরনের ধাতব মুদ্রা লেনদেনের জন্য বাজারে ছাড়া হয়েছে।