ঢাকা, বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২০, ৩১ আষাঢ়, ১৪২৭

একসময়ের মুজিববিরোধীরা এখন চরম মুজিবভক্ত

মুজিববর্ষ আসন্নপ্রায়। মুজিববর্ষ নিয়ে সারাদেশে এক উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। কিন্তু এই মুজিববর্ষে আত্মজিজ্ঞাসারও একটি বিষয় রয়েছে বলেও অনেক রাজনৈতিক মহল মনে করছে। যারা জাতির পিতার সমালোচনা করেছিল, জাতির পিতাকে যারা বিতর্কিত করার চেষ্টা করেছিল এবং যাদের কারণে জাতির পিতা কষ্ট পেয়েছিলেন- তাদের অনেকেই এখন মুজিবভক্ত হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন। মুজিববর্ষে বঙ্গবন্ধুর জন্য এদের কান্না, আর্তনাদ একধরনের কৌতুক সৃষ্টি করেছে।

জাতির পিতার যারা সমালোচনা করেছিলেন, যারা জাতির পিতার বিরোধিতা করেছিলেন, তাদের মধ্যে যারা বঙ্গবন্ধুভক্ত হয়েছেন- আসুন তাদের কয়েকজনকে দেখে নেওয়া যাক-

বেগম মতিয়া চৌধুরী

বেগম মতিয়া চৌধুরী আগে ছাত্র ইউনিয়ন করতেন, পরে তিনি ন্যাপ- এ যোগ দেন। তিনি ডাকসুর ভিপিও ছিলেন। ১৯৭৩ সালে ১ জানুয়ারি ভিয়েতনাম দিবসে যখন মার্কিন দূতাবাস ঘেরাওয়ের কর্মসূচি দিয়েছিল ছাত্র ইউনিয়ন, তাতে পুলিশ বাধা দিয়েছিল। এরপর মতিয়া চৌধুরী রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন। তখন তিনি জাতির পিতার চামড়া দিয়ে ডুগডুগি বাজাবেন বলে বক্তৃতাও দিয়েছিলেন। সেই মতিয়া চৌধুরী এখন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য একজন বড় মুজিবভক্ত।

রাশেদ খান মেনন

বঙ্গবন্ধুকে যারা আদর্শিকভাবে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করতো, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন ওয়ার্কাস পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। তিনি তার সমস্ত রাজনৈতিক জীবনেই আওয়ামী লীগের বিরোধিতা করেছেন। কিন্তু এখন এমপি মন্ত্রী হওয়ার জন্য তিনি মুজিবভক্তে পরিণত হয়েছেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের কথাও এখন প্রায়ই তিনি বলেন।

হাসানুল হক ইনু

জাতির পিতাকে হত্যার পটভূমি তৈরি করার ক্ষেত্রে জাসদের একটা ভূমিকা ছিল। যারা সন্ত্রাস, সহিংসতার মাধ্যমে দেশকে অস্থির করে তুলেছিল তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন ইনু। বিভিন্ন গ্রন্থ থেকে পাওয়া যায় যে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাওয়ের কর্মসূচিতে ইনু সশস্ত্র সহিংসতা ঘটিয়েছিলেন। ’৭৫ এর ১৫ আগস্টের পরে হাসানুল হক ইনুদের ভূমিকা ছিল রহস্যময়। সেই ইনুরাই এখন শুধুমাত্র রাজনৈতিক ফায়দা লুটার জন্য মুজিবভক্তে পরিণত হয়েছেন।

দিলীপ বড়ুয়া

সাম্যবাদী দলের নেতা দিলীপ বড়ুয়ার রাজনৈতিক জীবনের মূল অস্তিত্বই হলো আওয়ামী লীগ এবং বঙ্গবন্ধুর বিরোধিতা করা। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে দুই কুকুরের লড়াই বলে অভিহিত করা সেই দিলীপ বড়ুয়া ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে মন্ত্রী হন। এখন তিনি ১৪ দলের শরীক হিসেবে অন্যতম মুজিবভক্ত হিসেবে নিজেদেরকে জাহির করেন। অথচ বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে কুৎসা, নিন্দা করতে এরা কখনো কার্পণ্য করেননি।

শাহরিয়ার কবীর

শাহরিয়ার কবীর ছিলেন বিচিত্রার নির্বাহী সম্পাদক। এই বিচিত্রা বঙ্গবন্ধুর পরিবারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের জন্য জিয়াউর রহমান কর্তৃক ব্যবহৃত হয়েছিল। এই শাহরিয়ার কবীররাই তখন জাতির পিতার বিরুদ্ধে সাপ্তাহিক বিচিত্রায় একের পর এক প্রচ্ছদ, একের পর এক লেখা ছেপেছিলেন। এমনকি হুমায়ুন ফরিদীর বিয়ের সঙ্গে শেখ কামালের বিয়ের তুলনা করে লেখাটিও শাহরিয়ার কবীরদের মস্তিস্কজাত। তাদের কাজই ছিল বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে নানারকম অপপ্রচার করা। শুধু তাতেই ক্ষান্ত হননি। ১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসলে তখন তারা শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেও একই রকমের অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছিলেন। সেই শাহরিয়ার কবীররাও এখন বড় মুজিবভক্ত।

যারা জাতির পিতার সমালোচনা করতেন, যারা জাতির পিতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করেছিলেন- তাদের একটি অংশ ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছেন। আরেকটি অংশ তাদের বেশ পাল্টে এখন মুজিবভক্তে পরিণত হয়েছেন। মুজিববর্ষে এই সমস্ত ডিগবাজি খাওয়া ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা প্রয়োজন বলে অনেক বিশ্লেষক মনে করেন।