ঢাকা, সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২০, ২৯ আষাঢ়, ১৪২৭

পুলসিরাত নিয়ে আসছেন আজাদ আবুল কালাম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সেলিম আল দীন মুক্ত মঞ্চে নাট্যশ্রমের চার দশক ‘নাট্য পার্বণ ২০২০’ আয়োজিত হতে যাচ্ছে। এ উপলক্ষে ৩ মার্চ মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে মঞ্চায়িত হবে প্রাচ্যনাটের ৩৫তম প্রযোজনা নাটক ‘পুলসিরাত’।

ফিলিস্তিনি লেখক ঘাসান কানাফানির ‘মেন ইন দ্য সান’ উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি হয়েছে নাটকটি। এর অনুবাদ করেছেন মাসুমুল আলম। নাট্যরূপ দিয়েছেন মনিরুল ইসলাম রুবেল। নির্দেশনায় রয়েছেন কাজী তৌফিকুল ইসলাম ইমন। এখানে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করবেন বরেণ্য অভিনেতা আজাদ আবুল কালাম।

নাটকের গল্পে দেখা যাবে ভাগ্য বিড়ম্বিত তিনজন মানুষ আবু কায়েস, আসাদ ও মারওয়ান। নিজেদের ভাগ্যান্বেষণের জন্য ফিলিস্তিন থেকে স্বপ্নের কুয়েতে পাড়ি জমাতে চায়। তিনজন বয়সে এবং প্রজন্মে আলাদা হলেও এক জায়গায় মিল তারা সবাই উদ্বাস্তু।

আবু কায়েস তার দুই সন্তান ও এক স্ত্রী রেখে বন্ধুর পরামর্শে নতুন এক স্বচ্ছন্দময় স্বচ্ছল জীবনের প্রত্যাশা নিয়ে কুয়েত পাড়ি দিতে চায়। তার স্বপ্ন, তার সন্তানেরা স্কুলে পড়াশোনা করতে পারবে। বয়সের কারণেই হোক বা চরিত্রগত বৈশিষ্ট্যই হোক- স্বভাবে বেশ নরম ও কিছুটা ভীতু স্বভাবের আবু কায়েস।

তার ঠিক বিপরীত চরিত্রের আসাদ। বয়সে সে তরুণ। কিছুটা রাগী এবং স্বভাবে বেশ কৌশলী। সে এর আগেও সীমান্ত পার হয়ে অবৈধ পথে কুয়েত যেতে চেষ্টা করেছিল। নিশ্চিত ও উন্নত ভবিষ্যত, চাচাতো বোনকে বিয়ে করার স্বপ্ন আবার একই সাথে চাচার করা অপমান তাকে যুগপৎ তাড়িত করে।

অন্যদিকে ষোল বছরের মারওয়ান স্কুলের পড়াশোনা ছেড়ে নিজের পরিবারের দায়িত্বের চাপে পাড়ি দিতে চায় স্বপ্নের কুয়েতে। নিজের বড় ভাই কুয়েত থাকে। সেখানে সে কাজ করে দেশে পরিবারের জন্য টাকা পাঠাতো। কিন্তু বিয়ে করে টাকা পাঠানো বন্ধ করে দেয়। তার বাবা সন্তানদের ভরণ পোষণে অপারগ হয়ে নিজের স্বচ্ছল জীবনের স্বপ্ন পূরণে এক পঙ্গু মহিলাকে বিয়ে করে আলাদা হয়ে যায়। মারওয়ান তাই পরিবারকে বাঁচাতে অর্থ উপার্জনের স্বপ্ন নিয়ে পাড়ি দিতে চায় কুয়েত।

তারা সবাই-ই ঘটনাক্রমে আবুল খাইজুরানের শরণাপন্ন হয়। আবুল খাইজুরান একজন পানিবাহী ট্যাঙ্ক লরির ড্রাইভার। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সে ব্রিটিশ বাহিনির হয়ে যুদ্ধ করেছে। আবার ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ যোদ্ধাদের সাথেও কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছে। সেখানে একবার আকস্মিক হামলায় সে বোমা বিস্ফোরণের শিকার হয়।

এই আবুল খাইজুরান কায়েস, আসাদ আর মারওয়ানকে স্বপ্নের কুয়েত পর্যন্ত নিয়ে যেতে এগিয়ে আসে। বিনিময়ে সে তিন জনের কাছ থেকে দশ দিনার করে নেবে। তার পানিবাহী লরিতে করে সে সীমান্ত পাড়ি দিবে তিন জনকে নিয়ে। খাইজুরানের জন্য সেটা কোন কষ্টকর কিছুনা। আগস্ট মাসের প্রচণ্ড গরমে, রোদে পুড়ে মরুভূমির পথে লরিটি এগিয়ে যায়। তিনটি হতভাগ্য বিড়ম্বিত জীবন ছুটে চলে স্বপ্নময় এক নতুন স্বচ্ছল জীবনের প্রত্যাশায়! পাড়ি দিতে ছুটে চলে এক পুলসিরাত!

আজাদ আবুল কালাম ছাড়াও এ নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করবেন শাহরিয়ার সজীব, মনিরুল ইসলাম রুবেল, সাইফুল ইসলাম জার্নাল, চেতনা রহমান ভাষা প্রমুখ।

নাটকের সেট ডিজাইন করেছেন শাহীনুর রহমান, সংগীত পরিকল্পনায় নীল কামরুল, আলোক পরিকল্পনায় বাবর খাদেম।