নবচেতনা ক্রীড়া ডেস্ক: খাদের কিনারা থেকে দলকে টেনে তুললেন তাওহিদ হৃদয়। ব্যাট হাতে একাই বদলে দিলেন ম্যাচের চিত্র। ক্যারিয়ারের মাত্র তৃতীয় টেস্ট খেলতে নেমে প্রথম সেঞ্চুরিকেই রূপ দিলেন ডাবল সেঞ্চুরিতে। তার অবিশ্বাস্য ২৪২ রানের অপরাজিত ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ছাড়িয়ে ৩০ রানের লিড নিয়েছে বাংলাদেশ
আজ শনিবার (৭ নভেম্বর) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ব্যাট হাতে রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়ে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখেছেন এই ডানহাতি ব্যাটার।
তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করেছিলেন ২৯ রান নিয়ে। সেখান থেকে দিন শেষে অপরাজিত ২৪২ রানে। এক দিনেই ২১৩ রান যোগ করেছেন হৃদয়, যা এক দিনে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটারের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। তার এমন অতিমানবীয় ইনিংসে ৩৮৬ রানে শেষ হয়েছে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস। দলের মোট রানের ৬২.৬৯ শতাংশই এসেছে হৃদয়ের ব্যাট থেকে।
বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ড এখন হৃদয়ের দখলে। এর আগে মুশফিকুর রহিমের অপরাজিত ২১৯ রানের ইনিংস ছিল সর্বোচ্চ। এবার সেই রেকর্ড ভেঙে ২৪২ রানের ইনিংস খেললেন হৃদয়। একইসঙ্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটারের সর্বোচ্চ ইনিংসও এটি। এর আগে ২০১৮ সালে মিরপুরে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ১৩৮ রান ছিল সর্বোচ্চ।
শুধু সর্বোচ্চ ইনিংস নয়, একাধিক রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন হৃদয়। বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটার হিসেবে নিজের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিকে ডাবলে পরিণত করেছেন তিনি। সব মিলিয়ে টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি করা বাংলাদেশের চতুর্থ ব্যাটার হৃদয়। তার আগে এই কীর্তি ছিল মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবালের।
হৃদয়ের ব্যাটে ছিল চার-ছক্কার অবিশ্বাস্য প্রদর্শনী। ২২টি চার ও ১১টি ছক্কায় সাজানো তার ইনিংসে বাউন্ডারি থেকেই এসেছে ১৫৪ রান। বাংলাদেশের হয়ে এক ইনিংসে বাউন্ডারি থেকে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড এটি। এর আগে ২০১৭ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সাকিব আল হাসানের ২১৭ রানের ইনিংসে ৩১টি চারের মাধ্যমে এসেছিল ১২৪ রান।
টেস্ট ক্রিকেটের এক ইনিংসে ১১ ছক্কা হাকিয়ে যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ডেও জায়গা করে নিয়েছেন হৃদয়। তার আগে এই কীর্তি ছিল আরও ছয় ব্যাটারের।
সিলেটের মাঠেও নতুন রেকর্ড গড়েছেন হৃদয়। বাংলাদেশের হয়ে এই মাঠে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস এখন তার। ২০২৫ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে মাহমুদুল হাসানের ১৭১ রানের ইনিংসকে ছাড়িয়ে গেছেন তিনি।
হৃদয়ের এমন ইনিংসের আগে একসময় চরম বিপর্যয়ে ছিল বাংলাদেশ। ১৮৪ রানে সপ্তম উইকেট হারানোর পর দলের ইনিংস কার্যত একাই টেনে নিয়ে যান এই ব্যাটার। অষ্টম উইকেটে তাইজুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে গড়েন ১১৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের শেষ তিন উইকেট থেকে যোগ হয় ২০২ রান, যা দলটির টেস্ট ইতিহাসে এই অবস্থানের পর সর্বোচ্চ।
এক প্রান্ত আগলে রেখে অন্য প্রান্তে উইকেটের পতন দেখেছেন হৃদয়। কিন্তু, থামেননি তিনি। ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিকে ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপ দিয়ে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকেছেন ২৪২ রানে। তার ব্যাটেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে ঘুরে দাড়িয়েছে বাংলাদেশ।
নবচেতনা/এআর
