শহিদুল হক রাব্বি
দেশের চিনি শিল্পকে স্বাবলম্বী করা এবং প্রান্তিক আখচাষীদের অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এক বিশেষ যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এই উদ্যোগের আওতায় দেশের ৩৮,৯৫০ জন আখচাষীর মাঝে আখের অর্থ ও প্রণোদনা সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই গণমুখী দিকনির্দেশনাকে বাস্তবে রূপ দিতে এবং চিনি শিল্পকে পুনরায় ঘুরে দাঁড় করাতে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছেন বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের (বিএসএফআইসি) সম্মানীয় চেয়ারম্যান ও তাঁর গতিশীল নেতৃত্ব। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আখচাষীদের জন্য ঘোষিত এই প্রণোদনা প্রান্তিক কৃষকদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এক বিশাল মাইলফলক। চাষীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের সঠিক মূল্য নিশ্চিত করা এবং নির্দিষ্ট সময়ে প্রণোদনার অর্থ সরাসরি কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে চিনি শিল্পে চাষীদের আগ্রহ বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার সকাল ১১:০০ টায় বিএসএফআইসি’র সদর দপ্তরের বোর্ডরুমে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের (বিএসএফআইসি) এর জিয়া পরিষদের উদ্যোগে একটি সংবোরধনা আনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএসএফআইসি-এর মাননীয় চেয়ারম্যান (গ্রেড-২) জনাব মোঃ শামছুজ্জামান (সুরুজ)। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন সংস্থার পরিচালক (ইক্ষু উন্নয়ন ও গবেষণা) এবং যুগ্মসচিব ড. আব্দুল আলীম খান, সংস্থার পরিচালক (উৎপাদন ও প্রকৌশল) এবং যুগ্মসচিব মোহাম্মদ সাঈদ-উর-রহমান, সংস্থার পরিচালক (অর্থ) ও যুগ্মসচিব তাহমিনা আক্তার, পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) সাইফুর রহমান খান, সংস্থার সচিব জনাব মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান, সংস্থার সিওপি শাহরীনা তানাজ, জিয়া পরিষদের সম্মানিত সভাপতি কৃষিবিদ মোঃ আবু রায়হান, সাধারণ সম্পাদক জনাব মোঃ গোলাম রব্বানী, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আশরাফ সরকার জুয়েল সহ বিএসএফআইসি’র সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারি বৃন্দ। উক্ত আলোচনা সভায় মুখ্য আলোচক হিসেবে বিএসএফআইসি-এর মাননীয় চেয়ারম্যান (গ্রেড-২) বক্তব্য প্রদান করেন। সভায় অন্যান্যদের মধ্যে জিয়া পরিষদের সভাপতি জুম মিটিং এ সংযুক্ত থেকে বক্তব্য রাখেন। বিএসএফআইসি-এর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতার কারণে সরকারের এই কল্যাণকর উদ্যোগ অত্যন্ত স্বচ্ছতা ও সফলতার সাথে মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে। চেয়ারম্যান স্যারের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে কর্পোরেশন বর্তমানে মিলগুলোর মাড়াই ক্ষমতা বৃদ্ধি, আখচাষ বৃদ্ধি, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ এবং চাষীদের সরাসরি সহায়তা প্রদানে অনন্য সাফল্য প্রদর্শন করে চলেছে।
অনুষ্ঠানে/বিবৃতিতে বিএসএফআইসি-এর চেয়ারম্যান স্যার জানান:
“মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই মহান উদ্যোগ আমাদের চিনি শিল্প এবং লাখ লাখ আখচাষীর জন্য এক বিরাট আশীর্বাদ। ৩৮,৯৫০ জন আখচাষীর হাতে সময়মতো প্রণোদনার অর্থ পৌঁছে দিয়ে আমরা চাষীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পেরেছি। বিএসএফআইসি পরিবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই ভিশন বাস্তবায়নে শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। চিনি শিল্পকে লাভজনক ও আধুনিক খাত হিসেবে গড়ে তুলতে আমাদের এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে।” বিএসএফআইসি-এর সাম্প্রতিক এসব সফল উদ্যোগ ও স্বচ্ছ অর্থ বিতরণ ব্যবস্থার ফলে চিনি কল সংলগ্ন এলাকাগুলোতে আখ চাষে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। সময়মতো আখের মূল্য ও প্রণোদনা পাওয়ায় চাষীরা আখ চাষ বৃদ্ধিতে উৎসাহী হচ্ছেন, যা দেশের সার্বিক চিনি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক অবদান রাখছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং বিএসএফআইসি-এর চেয়ারম্যান স্যারের দক্ষ পরিচালনায় দেশের চিনি শিল্প আবারও একটি সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী রূপ লাভ করবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশাবাদ ব্যক্ত করছেন।
আখচাষীদের জীবনমান উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর বৈপ্লবিক পদক্ষেপ : বিএসএফআইসি ও চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে চিনি শিল্পে নবদিগন্তের সূচনা
