ePaper

শিক্ষা-শৃঙ্খলা ও সহশিক্ষায় বদলে যাচ্ছে কালেক্টরেট স্কুল এসএসসিতে পাসের হার ৯৯.২০ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩০ শিক্ষার্থী

কাজী মামুন,পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি

শুধু পাঠ্যবই আর পরীক্ষার ফলাফলের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে শিক্ষা, শৃঙ্খলা, সৃজনশীলতা, প্রযুক্তি ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের সমন্বয়ে নিজেদের এগিয়ে নিচ্ছে পটুয়াখালী কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ। শিক্ষার্থীদের মেধা ও মনন বিকাশে নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি বিতর্ক, আবৃত্তি, সংগীত, খেলাধুলা, বিজ্ঞান, তথ্যপ্রযুক্তি ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই প্রতিষ্ঠানটি জেলার শিক্ষাঙ্গনে আলাদা একটি অবস্থান তৈরি করেছে।

প্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক ফলাফলও সেই অগ্রগতিরই প্রতিফলন। ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় এ প্রতিষ্ঠান থেকে ১২৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১২৪ জন। পাসের হার ৯৯ দশমিক ২০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩০ জন শিক্ষার্থী। জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এ ফলাফলকে উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পটুয়াখালী শহরের এসডি রোডে ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠার সময় ৩১৬ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ২৪৩ জন। পাঠদান করছেন ২৪ জন শিক্ষক। ২০২২ সালে চালু করা হয় কলেজ শাখা। বর্তমানে দ্বাদশ শ্রেণিতেও শিক্ষার্থীরা অধ্যয়ন করছে।

প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রমে পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে শুধু শ্রেণিকেন্দ্রিক পাঠদান নয়, শিক্ষার্থীদের বহুমুখী প্রতিভা বিকাশের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। নিয়মিত আয়োজন করা হচ্ছে আন্তঃশ্রেণি প্রতিযোগিতা, বিতর্ক, কুইজ, আবৃত্তি, নাচ ও গানসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল কার্যক্রম। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস, নেতৃত্বের গুণাবলি ও সৃজনশীলতা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

শিক্ষার্থীদের বই পড়ার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে চালু করা হয়েছে ‘পড়ার ঘর’ নামে লাইব্রেরি। প্রতি বৃহস্পতিবার ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের গণগ্রন্থাগারে নেওয়ার উদ্যোগও রয়েছে। এতে পাঠ্যবইয়ের বাইরে বিভিন্ন ধরনের বই পড়ার সুযোগ পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

সহশিক্ষা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে শনিবার বিভিন্ন ক্লাবের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এর মধ্যে আর্ট, বিতর্ক, ল্যাঙ্গুয়েজ, বিজ্ঞান ও আইসিটি এবং স্পোর্টস ক্লাব উল্লেখযোগ্য। শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ও যোগ্যতা অনুযায়ী এসব কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নিয়মিত ক্লাসের বাইরে অতিরিক্ত পাঠদান ও অধ্যায়ভিত্তিক মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার দিকেও এগিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে পাঠদান, ডিজিটাল হাজিরা, সিসিটিভি মনিটরিং এবং পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে প্রযুক্তির ব্যবহার করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের আত্মরক্ষার সক্ষমতা বাড়াতে মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও রয়েছে। একই সঙ্গে পরিচ্ছন্নতা, শৃঙ্খলা, সময়ানুবর্তিতা ও শিষ্টাচারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শিক্ষাগত অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের জন্য চালু করা হয়েছে ‘স্পেশাল কেয়ার ইউনিট’। শ্রেণিভিত্তিক উপস্থিতি ও ফলাফল পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ফলে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমে অভিভাবকদের সম্পৃক্ততাও বাড়ছে। তবে সাফল্যের পাশাপাশি রয়েছে কিছু সীমাবদ্ধতাও। অভিভাবকদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটির প্রতি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আগ্রহ বাড়লেও সেই তুলনায় আসনসংখ্যা সীমিত। ফলে প্রতিবছর অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। তারা শিক্ষার্থীর চাহিদা বিবেচনায় আসনসংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।

প্রতিষ্ঠানটির উপাধ্যক্ষ শাহানারা আক্তার বলেন, জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠানটিকে আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল নয়, শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, অবকাঠামো ও জনবল আরও বাড়ানো, আধুনিক শিক্ষা উপকরণের ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং সহশিক্ষা কার্যক্রম আরও জোরদার করা গেলে পটুয়াখালী কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভবিষ্যতে দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করতে পারবে।