ePaper

জাবিতে ডেঙ্গুর প্রকোপ, আগস্টে আক্রান্ত ৪৯ শিক্ষার্থী

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। আগস্ট মাসে ৪৯ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হওয়ার পর সেপ্টেম্বরের প্রথম পাঁচ দিনেই আরও সাতজনের শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের প্যাথলজি বিভাগের তথ্য থেকে এ চিত্র পাওয়া গেছে।

প্যাথলজি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের প্রথম পাঁচ দিনে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে পরীক্ষা করানো শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাতজনের পরীক্ষার ফল পজিটিভ এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে রোববার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কর্মদিবসে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হয়।

এর আগে আগস্ট মাসে ১৯ কর্মদিবসে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে মোট ৫৩০ জন পরীক্ষা করান। তাদের মধ্যে ৪৯ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। অর্থাৎ আগস্টে পরীক্ষা করানো শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৯ শতাংশের শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে।

সেপ্টেম্বরের শুরুতেই আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় ক্যাম্পাসে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে মশার প্রজননস্থল থাকলেও নিয়মিত মশকনিধন কার্যক্রম দেখা যাচ্ছে না। ফলে আবাসিক হল ও আশপাশের এলাকায় ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়ছে।

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, জ্বর, মাথাব্যথা ও শরীরব্যথাসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে পরীক্ষা করান। পরীক্ষায় ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ার পর কেউ হলে থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন, আবার কেউ চিকিৎসার জন্য বাড়িতে চলে গেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের ভারপ্রাপ্ত প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মো. শামছুল আলম এর আগে জানিয়েছিলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ডেঙ্গু রোগীর চাপ বেশি। সামনে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশার ওষুধ ছিটানোর পাশাপাশি ক্যাম্পাসের অপ্রয়োজনীয় ঝোপঝাড়, ময়লা-আবর্জনা ও সম্ভাব্য মশার প্রজননস্থল পরিষ্কার করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

কীটতত্ত্ববিদ ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার বলেন, শুধু ফগিং বা পূর্ণবয়স্ক মশা নিধনের মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে তা ধ্বংস করার পাশাপাশি নিয়মিত এন্টোমোলজিক্যাল সার্ভেইল্যান্স বা মশা জরিপ চালানো প্রয়োজন।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসের ডেপুটি রেজিস্ট্রার আবদুর রহমান এর আগে জানিয়েছিলেন, মশার বিস্তার নিয়ন্ত্রণে অন্তত সপ্তাহে একবার স্প্রে করা প্রয়োজন। তবে সর্বশেষ জুনে ক্যাম্পাসে স্প্রে করা হয়েছিল। নতুন মশকনিধন সামগ্রী কেনার জন্য জুলাইয়ে বাজেট চেয়ে আবেদন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলামও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, মেডিকেল সেন্টারের উপদেষ্টা পরিষদ ও মশকনিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে জরুরি সভা করে ডেঙ্গু প্রতিরোধে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আগস্টে ৪৯ জন আক্রান্ত হওয়ার পর সেপ্টেম্বরের প্রথম পাঁচ দিনেই আরও সাতজনের ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ে সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

শিক্ষার্থীদের মতে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু ওষুধ ছিটানো নয়, নিয়মিত মশক জরিপ, জমে থাকা পানি অপসারণ, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং সম্ভাব্য এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে কার্যকর ও ধারাবাহিক উদ্যোগ প্রয়োজন।