ePaper

ফরিদপুরে সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে মাঠে বিজেপি, ৯ উপজেলায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের উদ্যোগ

ফরিদপুর ব্যুরো

ফরিদপুরে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি। জেলার নয়টি উপজেলায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন, পৌর কমিটির অনুমোদন এবং পর্যায়ক্রমে ইউনিয়ন পর্যায়ে সাংগঠনিক কাঠামো বিস্তারের উদ্যোগ নিয়েছে দলটির জেলা শাখা। ইতোমধ্যে চারটি উপজেলায় আংশিক কমিটি থাকলেও বাকি উপজেলাগুলোতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

দলীয় নেতারা বলছেন, তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের সক্রিয় করা এবং সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। উপজেলা পর্যায়ের কমিটি গঠনের পর ধাপে ধাপে ইউনিয়ন পর্যায়েও কমিটি গঠন করা হবে।

সম্প্রতি বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পর ফরিদপুরে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে সাংগঠনিক তৎপরতা দেখা দিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত বুধবার (২৬ আগস্ট) রাজধানীর বারিধারায় দলের চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে গিয়ে ফুল দিয়ে তাঁকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান ফরিদপুর জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার আহমেদ অভি।

শুভেচ্ছা বিনিময়কালে শাহরিয়ার আহমেদ অভি নতুন দায়িত্বে আন্দালিভ রহমান পার্থের সাফল্য কামনা করেন। একই সঙ্গে তাঁর নেতৃত্বে দেশের তথ্য ও সম্প্রচার খাত আরও গতিশীল, স্বচ্ছ ও আধুনিক হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

শাহরিয়ার আহমেদ অভি বলেন, ‘ফরিদপুর জেলা বিজেপির ৫১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি রয়েছে। বর্তমানে চারটি উপজেলায় আংশিক কমিটি আছে। এখন আমরা জেলার নয়টি উপজেলাতেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের কার্যক্রম শুরু করেছি। পৌর কমিটিও প্রস্তুত রয়েছে। আগামী মাসে সেটির অনুমোদন দেওয়া হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিজেপির চেয়ারম্যান ও মাননীয় তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থের দিকনির্দেশনায় আমরা এ কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছি। তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের সক্রিয় করে শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।’

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুরের নয়টি উপজেলায় সাংগঠনিক কার্যক্রম বিস্তারের লক্ষ্যে উপজেলা কমিটি গঠনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। নতুন কমিটিতে ত্যাগী, সক্রিয় ও মাঠপর্যায়ে গ্রহণযোগ্য নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা গেলে নিয়মিত দলীয় কর্মসূচি পালন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো সহজ হবে বলে মনে করছেন নেতারা।

তবে জেলা কমিটির নেতৃত্ব নিয়ে দলের ভেতরে কিছুটা অসন্তোষের কথাও জানা গেছে। কয়েকজন নেতাকর্মীর অভিযোগ, জেলা বিজেপির সভাপতি আরিফুর রহিম রনি সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে তুলনামূলকভাবে নিষ্ক্রিয়। দলকে আরও সক্রিয় করতে তাঁর নিয়মিত সাংগঠনিক তৎপরতা প্রয়োজন বলে মনে করেন তাঁরা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সভাপতি আরিফুর রহিম রনির বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে দলের চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণকে কেন্দ্র করে বিজেপির নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন রাজনৈতিক উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। গত ২১ আগস্ট রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে তাঁকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরদিন তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

দায়িত্ব গ্রহণের পর গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময়ে পার্থ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে নিয়ম ও দায়িত্বের ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে সরকারের কর্মকাণ্ড জনগণের কাছে স্বচ্ছভাবে তুলে ধরা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান।

ফরিদপুর জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার আহমেদ অভি বলেন, দলের চেয়ারম্যানকে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি জেলার সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশনা অনুযায়ী তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে দলকে শক্তিশালী করার কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কোনো রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফরিদপুরে নয়টি উপজেলায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন এবং পরবর্তী সময়ে ইউনিয়ন পর্যায়ে সাংগঠনিক কাঠামো বিস্তারের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে জেলা পর্যায়ে বিজেপির কার্যক্রম আরও দৃশ্যমান হতে পারে। তবে কমিটি গঠনের পাশাপাশি এসব কমিটি কতটা সক্রিয়ভাবে মাঠে কাজ করতে পারে এবং দলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় কতটা নিশ্চিত হয়, সেটিই হবে এ উদ্যোগের মূল পরীক্ষা।