মো. আফজল হোসেইন, শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের সন্তান সাইফুর রহমান জাবেদ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ‘খবং ঈষবভং ফ’ঙৎ (দ্য গোল্ডেন কীস)’–এর সদস্যপদ অর্জন করে বাংলাদেশের হসপিটালিটি খাতে নতুন ইতিহাস গড়েছেন। রেডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউ হোটেলের চিফ কনসিয়ার্জ হিসেবে কর্মরত জাবেদ বাংলাদেশের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে এই মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করেছেন।গত ১৫ থেকে ১৭ জুন ভারতের উদয়পুর ম্যারিয়ট হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘খবং ঈষবভং ফ’ঙৎ ওহফরধ’–এর ১৯তম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) ও ১৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে তাকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়। ১৬ জুন আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে তার কোটে ‘গোল্ডেন কীস’-এর স্বর্ণের প্রতীকী পিন পরিয়ে সদস্যপদ প্রদান করা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কনসিয়ার্জ পেশাজীবীদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে তার এই অর্জন ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়।
বর্তমানে বাংলাদেশে খবং ঈষবভং ফ’ঙৎ–এর কোনো জাতীয় সেকশন নেই। দক্ষিণ এশিয়ায় সংগঠনটির সক্রিয় সেকশন রয়েছে ভারতে। সাইফুর রহমান জাবেদ ‘খবং ঈষবভং ফ’ঙৎ ওহফরধ’–এর মাধ্যমে সদস্যপদ অর্জন করেছেন, যা তার এই সাফল্যকে আরও গৌরবময় করে তুলেছে।বিশ্বব্যাপী হোটেল শিল্পে ‘গোল্ডেন কীস’ সদস্যপদ সর্বোচ্চ পেশাগত স্বীকৃতিগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়। দীর্ঘদিনের পেশাগত অভিজ্ঞতা, অতিথি সেবায় অসাধারণ দক্ষতা, আন্তর্জাতিক মানের সেবাদান, বিদ্যমান সদস্যদের সুপারিশ এবং কঠোর মূল্যায়ন প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন করার পরই এই সদস্যপদ প্রদান করা হয়। সংগঠনটির সদস্যরা ইউনিফর্মে ক্রস করা স্বর্ণের চাবির ব্যাজ ধারণ করেন, যা বিশ্বজুড়ে উৎকর্ষতা, বিশ্বাসযোগ্যতা ও প্রিমিয়াম অতিথি সেবার প্রতীক।সাইফুর রহমান জাবেদের এই অর্জন বাংলাদেশের হোটেল ও পর্যটন শিল্পের জন্য এক গর্বের বিষয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের আতিথেয়তা সেবার মর্যাদা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও পর্যটন খাতের উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে এটি দেশের তরুণ হসপিটালিটি পেশাজীবীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।ব্যক্তিগত জীবনে সাইফুর রহমান জাবেদের স্থায়ী বাড়ি মৌলভীবাজার জেলার কাঁঠালতলী এলাকায়। তিনি শ্রীমঙ্গলে শিক্ষাজীবন সম্পন্ন করেন এবং বর্তমানে পরিবারসহ শ্রীমঙ্গল উপজেলার শাহীবাগ এলাকায় বসবাস করেন। পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি চট্টগ্রামে অবস্থান করলেও নিয়মিত নিজ জেলা ও শ্রীমঙ্গলে যাতায়াত করেন।আন্তর্জাতিক এই স্বীকৃতির মাধ্যমে সাইফুর রহমান জাবেদ শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য অর্জন করেননি; বাংলাদেশের হসপিটালিটি খাতকেও বিশ্বমঞ্চে নতুনভাবে পরিচিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
