ePaper

ফরিদপুর পৌরসভায় নাগরিক সেবায় গতি, প্রশাসনিক শৃঙ্খলায়ও জোর

ফরিদপুর ব্যুরো

ফরিদপুর পৌরসভায় নাগরিকত্ব সনদ ও বিভিন্ন ধরনের প্রত্যয়নপত্র পেতে একসময় আবেদনকারীদের ১৫ থেকে ২০ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো। নির্বাচিত কাউন্সিল না থাকায় আবেদনগুলো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হতো। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাপ্তরিক ব্যস্ততার কারণে প্রতিবেদন পেতে বিলম্ব হওয়ায় সাধারণ মানুষকে দিনের পর দিন ভোগান্তি পোহাতে হতো।তবে প্রায় চার মাস আগে দায়িত্ব গ্রহণের পর পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হোসাইন মোহাম্মদ হাই জকীর উদ্যোগে এ চিত্রে পরিবর্তন এসেছে। পৌরসভা সূত্র জানায়, আবেদন যাচাই-বাছাই ও সুপারিশ প্রদানের দায়িত্ব পৌরসভার সমাজ উন্নয়ন কর্মকর্তাকে দেওয়ার ফলে বাইরের বিভিন্ন দপ্তরের ওপর নির্ভরশীলতা কমেছে। এতে আগে যে নাগরিকত্ব সনদ বা প্রত্যয়নপত্র পেতে ১৫ থেকে ২০ দিন সময় লাগত, বর্তমানে অধিকাংশ আবেদন ১ থেকে ২ কার্যদিবসের মধ্যেই নিষ্পত্তি করা সম্ভব হচ্ছে।শুধু সেবার গতি বাড়ানোই নয়, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই প্রশাসনিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি যানবাহনের জ্বালানি অপচয় ও চুরির অভিযোগ রোধে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্রতি সপ্তাহে একদিন নিজে উপস্থিত থেকে জ্বালানি সরবরাহ কার্যক্রম তদারকি করেন। এছাড়া বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে প্রায় অর্ধশতাধিক কর্মচারীর বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে পৌরসভা সূত্র জানিয়েছে।হোসাইন মোহাম্মদ হাই জকী বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ৩৩তম ব্যাচের কর্মকর্তা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর ২০১৪ সালে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন। পরে অস্ট্রেলিয়া সরকারের বৃত্তি নিয়ে কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি ও পাবলিক পলিসি বিষয়ে ডিস্টিংশনসহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এর আগে তিনি প্রায় আড়াই বছর ঢাকার ধামরাই উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হোসাইন মোহাম্মদ হাই জকী বলেন, “পৌরসভা স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান। তাই নাগরিকদের দ্রুত, সহজ ও স্বচ্ছ সেবা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। একই সঙ্গে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা, আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় ধারাবাহিকভাবে কাজ করছি। দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা দূর করে ফরিদপুর পৌরসভাকে আরও আধুনিক, দক্ষ ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে এসব উদ্যোগের ইতিবাচক প্রভাব নাগরিক সেবায় পড়তে শুরু করেছে। ভবিষ্যতেও সেবার মান আরও উন্নত করতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।”একজন সেবাগ্রহীতা ফরিদপুর পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের শোভারামপুর এলাকার  বাসিন্দা মুনসুর সেক বলেন, “আগে একটি নাগরিকত্ব সনদ তুলতে কয়েকবার পৌরসভায় আসতে হতো, ১৫–২০ দিন পর্যন্ত অপেক্ষাও করতে হয়েছে। এবার আবেদন করার পর দুই দিনের মধ্যেই সনদ হাতে পেয়েছি। প্রক্রিয়াটি আগের তুলনায় অনেক সহজ ও দ্রুত হয়েছে।”নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নারী সেবাগ্রহীতা বলেন, “প্রত্যয়নপত্রের জন্য দ্রুত সেবা পাব, এমনটা আগে ভাবিনি। এখন কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন এবং অল্প সময়েই কাজ শেষ হচ্ছে। এতে সময় ও খরচ—দুই-ই কমেছে।”

WordPress database error: [Index for table 'wp_postmeta' is corrupt; try to repair it]
SELECT post_id, meta_key, meta_value FROM wp_postmeta WHERE post_id IN (11367,3672,14650) ORDER BY meta_id ASC

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *