ব্যুরো চীফ,ফরিদপুর
ফরিদপুর সদর উপজেলার চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের মমিনখার হাটসংলগ্ন একটি পাটক্ষেত থেকে নিখোঁজের দুই দিন পর ইউসুফ ফকির (৪৭) নামে এক ভুসিমাল ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মরদেহে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। অন্যদিকে নিহতের পরিবারের অভিযোগ, মুক্তিপণের জন্য ৩০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল। টাকা না দেওয়ায় তাকে হত্যা করা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের লোকমান খান ডাঙ্গি এলাকার একটি পাটক্ষেতে স্থানীয় কৃষক মজিবর সিকদার কাজ করতে গিয়ে ইউসুফ ফকিরকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তার পাশেই একটি বিষের বোতল পড়ে ছিল। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত ইউসুফ ফকির মমিনখার হাট এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয়ভাবে পরিচিত ভুসিমাল ব্যবসায়ী। তিনি গত ১৬ জুলাই সন্ধ্যার পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে ১৭ জুলাই কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১৩৬০) করেন।
পরিবারের দাবি, নিখোঁজ হওয়ার পর শুক্রবার ইউসুফ ফকিরের বড় ভাই গিয়াসউদ্দিনের মোবাইল ফোনে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি কল করে ৩০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। তাদের অভিযোগ, টাকা না দেওয়ায় ইউসুফকে হত্যা করা হয়েছে।
খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, “মরদেহে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, আলামত সংগ্রহ এবং তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করতে হবে। ঘটনাটির রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।”পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে। বর্তমানে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
